ঈদের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজার

দৈনিকসিলেট ডেস্ক :
দেশের অন্যতম পর্যটন জেলা হলো মৌলভীবাজার। এ জেলার সাত উপজেলায় রয়েছে প্রায় শতাধিক ছোট-বড় পর্যটন স্পট। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলায় ২১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতিবছর ঈদেই বিপুলসংখ্যক ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের সমাগম হয় মৌলভীবাজারে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত মৌলভীবাজারের পর্যটন স্পট ও আবাসন ব্যবসায়ীরা। পুরো জেলায় শতাধিক পর্যটন স্পট থাকলেও দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসুদের প্রথম পছন্দ হলো শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা। ফলে এই দুই উপজেলাসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে পাঁচ তারকা মানের রিসোর্টসহ দেড় শতাধিক রিসোর্ট, ইকো কটেজ, হোটেল, মোটেল। যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ আগাম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে শতভাগ বুকিং সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা আবাসন ব্যবসায়ীদের।
মৌলভীবাজার জেলার সাত উপজেলায় রয়েছে উঁচুনিচু পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে সবুজের গালিচায় মোড়ানো ৯২টি চা-বাগান। এ ছাড়া এ জেলার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম হলোÑ কমলগঞ্জ উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হামহাম জলপ্রপাত, সীতাপ জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, পদ্মছড়া লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, মণিপুরীপল্লী, শমসেরনগর বিমানবন্দর, মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি, শমসেরনগর গলফ মাঠ; শ্রীমঙ্গল উপজেলায় লাসুবন গিরিখাত, হাইল হাওর, বাইক্কা বিল, বিদ্যাবিল হাজং টিলা, ডিনস্টন সিমেট্রি, কালাছড়া সংরক্ষিত বন, নিরালা পান পুঞ্জি, রাবার বাগান, চাউতলী বনাঞ্চল, ভাড়াউড়া লেক, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, চা কন্যা ভাস্কর্য, চা জাদুঘর, লেবু-আনারস বাগান, লালমাটি কালীটিলা, বড়লেখা উপজেলায় মাধককুণ্ড জলপ্রপাত, পরীকুণ্ড জলপ্রপাত, সুজানগর আগর কারখানা, মুরইছড়া বনাঞ্চল, আগর বাগান, পাথারিয়া বনাঞ্চলসহ শতাধিক মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট।
শ্রীমঙ্গলের রাধানগর এলাকায় অবস্থিত শান্তিবাড়ি ইকো রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী তানভিরুল আরেফিন লিংকন বলেন, ‘প্রতিবছর নভেম্বর মাস থেকে পরবর্তী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত মূলত পর্যটন মৌসুম। এ বছর মার্চ মাসে রোজা থাকায় রিসোর্ট, কটেজগুলো একেবারে ফাঁকা ছিল। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা। তবে এবারের ঈদে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছে তারা। ইতোমধ্যে আমাদের রিসোর্টের পুরোটাই অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আমরা প্রস্তুত পর্যটকদের বরণ করে নিতে।’
নির্জন নেচার হাইড আউট রিসোর্টের ব্যবস্থাপক দুর্জয় দেববর্মা বলেন, ‘এবারের ঈদে অনলাইনে আমাদের রিসোর্টের প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং কনফার্ম হয়েছে। বাকি ৩০ শতাংশ হয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। এবার অন্যবারের চেয়ে ভালো সাড়া পাচ্ছি।’
রাধানগর পর্যটন কল্যাণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সামছুল হক বলেন, ‘ঈদের টানা ছুটিতে এবার ভালো ব্যবসা হবে বলে আশাবাদী। আমি ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজার জেলায় পর্যটকদের আগমনের জন্য বিশেষ ট্রেনের দাবি করছি। বিশেষ ট্রেন হলে আরও বিপুলসংখ্যক পর্যটকের পাদভরে মুখরিত হতো এ অঞ্চল।’
শ্রীমঙ্গল আবাসন সেবা সংস্থার যুগ্ম আহ্বায়ক ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী সেলিম আহমদ বলেন, ‘কোনো উৎসব বা সরকারি লম্বা ছুটিতে মানুষ ঘুরতে বের হয়। এটার সঙ্গে পর্যটন শিল্পের বিকাশের সম্পর্ক আছে বলে আমার মনে হয় না। কারণ এটা অনেকটা মৌসুমি ব্যবসার মতো। তবে কিছুটা প্রভাব তো পড়বেই। এবারের ঈদের ছুটি বেশ লম্বা। আর এই লম্বা ছুটির কারণে মানুষ ঘুরে বেড়ানোর সময় পাবেন। অন্য দিকে ভারতের ভিসা বন্ধ, সাজেক ভ্রমণে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ফলে দেশের সমৃদ্ধ পর্যটন স্থান শ্রীমঙ্গল তথা মৌলভীবাজারে পর্যটকদের সমাগম হবে।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ঈদের বন্ধে পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন করতে আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তায় সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আমরা ডিউটি তদারকি করব। ট্যুরিস্ট পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।’