‘অপরিকল্পিত’ সেতু নির্মাণে বন্ধ নৌপথ, পরিদর্শন করলেন উপপরিচালক
সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কের ‘ফতুরখাড়া’ নামক স্থানে পুরনো সেতুর পাশে নতুন করে ‘অপরিকল্পিত’ একটি সেতু নির্মিত হচ্ছে। বালাগঞ্জ ইউনিয়নের গহরমলি-রহমতপুর এলাকায় হাওরাঞ্চলে নৌপথ বন্ধ করে নির্মাণাধীন নিচু সেতুতে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠেছে। এছাড়া, সওজ’র কথিপয় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ এবং নকশা পরিবর্তন করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ও পতিত সরকারের নেতারা লুটপাট করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সাড়ে ১৬কোটি টাকা ব্যয়ে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে সেতু নির্মাণের কাজ পায় ‘জন জেবি’ নামের তিনজনের অংশীদারিত্বের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এনিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে ২৮এপ্রিল বিকেলে স্থানীয় সরকার সিলেট’র উপপরিচালক (উপসচিব) সুবর্ণা সরকার নির্মাণাধীন ওই সেতু পরিদর্শন করেন।
এসময় ইউএনও সুজিত কুমার চন্দ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকার মামুনুর রশীদসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি অবহিত হয়ে ২৬ এপ্রিল বালাগঞ্জের ইউএনও সুজিত কুমার চন্দ্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় নিচু সেতুর নির্মাণ কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। এনিয়ে জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ ও সওজ সিলেট সড়ক জোনের অতিরিক্তি প্রধান প্রকৌশলী আবু সাঈদ মো. নাজমুল হুদার সাথে কথা বলেন। এছাড়া, জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
এবিষয়ে উপপরিচালক বলেন, ‘আমি দিনব্যাপি বালাগঞ্জে বিভিন্ন দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছি। খুবই গুরুত্ব দিয়ে ‘অপরিকল্পিত’ এই সেতুর নির্মাণ কাজ ঘুরেঘুরে দেখেছি। সিলেট বিভাগের অধিকাংশ উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে গিয়েছি। কিন্তু এরকম হাওড় এলাকায় এতো নিচু সেতু কোথাও দেখিনি। নদী পথ বন্ধ করে কোন যুক্তিতে এটি নির্মাণ করা হচ্ছে তা আমার বোধগম্য নয়’। তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতনদের সাথে কথা বলে প্রকাশিত সংবাদসহ সেতুর ডকুমেন্টারি পাঠিয়েছি’। ইউএনও সুজিত কুমার চন্দ বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের দেয়া লিখিত অভিযোগ পেয়ে সরজমিন গিয়ে সেতু এলাকার বাসিন্দাদের কথা বলেছি। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট রিপোর্ট করবো’।







