বন্ধুত্ব থেকে প্রেম-বিয়ে, এবার উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপ যাত্রা
একই বিভাগের শিক্ষার্থী, একই ক্লাসে পরিচয়। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, এরপর বিয়ে। এবার উচ্চশিক্ষার জন্য একইসঙ্গে পাড়ি দিচ্ছেন ইউরোপে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এই দুই সাবেক শিক্ষার্থী হলেন আজিজুর রহমান রিয়াজ ও সোনিয়া আহসান চৌধুরী। আগামী সেপ্টেম্বরে সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপসহ মাস্টার্স প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার কথা তাদের।
জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের (জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি) ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন দুজনেই। চট্টগ্রামের বাঁশখালীর শেখেরখীল গ্রামের রিয়াজ ও রাউজানের গহিরার সোনিয়ার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ২০১৯ সালে প্রেমে রূপ নেয়। মাস্টার্সের পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে আবেদনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই তারা সিদ্ধান্ত নেন, অফার লেটার পেলেই বিয়ে করবেন। সে অনুযায়ী গত ২৪ জুলাই বিয়ে করেছেন তারা।
আলাপ করে জানা যায়, রিয়াজ ইরাসমাস মুন্ডাসের ‘ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার ইন ইনোভেটিভ মেডিসিন’ প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন। প্রথম বছর তিনি পড়বেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর দ্বিতীয় বছর যাবেন নেদারল্যান্ডসের গ্রোনিংজেন বা এস্তোনিয়ার টার্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর সোনিয়া পড়বেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফেকশন বায়োলজি প্রোগ্রামে। তিনি পেয়েছেন ‘উপসালা ইউনিভার্সিটি গ্লোবাল স্কলারশিপ’।
রিয়াজ বলেন, আমরা দুজনই আগে থেকেই পড়ালেখাকে প্রাধান্য দিতাম। দুজনেরই প্রথমবারের মতো আবেদন ছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইরাসমাসে আবেদন করি। ফেব্রুয়ারিতে আবেদন করি সুইডেনের বিভিন্ন প্রোগ্রামে। আমাদের একটাই চাওয়া ছিল—যেখানেই যাই, যেন একসঙ্গে যেতে পারি।
প্রয়োজনীয় নথি তৈরি, আইইএসটিএস-এর প্রস্তুতি, এসওপি লেখা সব কিছুতেই একে অপরকে সহযোগিতা করেছেন। রিয়াজ বলেন, ‘সোনিয়া আমার ইন্টারভিউয়ের জন্য ডেমো নিয়েছে, আমিও ওর আবেদনপত্র দেখে সংশোধন করেছি।’
গত ২৭ মার্চ উপসালা থেকে অফার লেটার পান সোনিয়া। ২৮ মার্চ রিয়াজ ইরাসমাস স্কলারশিপে নির্বাচিত হন। সেদিনই তারা পরিবারকে বিয়ের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। রিয়াজ বলেন, ‘আমার পরিবার খুব সহযোগিতা করেছে। সোনিয়ার দুই বড় বোন কানাডা ও ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন, তাদের দিক থেকেও উৎসাহ ছিল।’
দুজনের গবেষণার ক্ষেত্র ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একটাই—ভালো গবেষক হয়ে দেশে ফিরে অবদান রাখা। রিয়াজের আগ্রহ ক্যানসার জেনেটিক্স নিয়ে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স থিসিস করেছেন ক্যানসারের জিনগত কারণ নিয়ে। রিয়াজ বলেন, ‘দেশে ফিরে ক্যানসার স্ক্রিনিং সুলভ ও সহজলভ্য করতে চাই।’
সোনিয়া গবেষণা করতে চান মাইক্রোবিয়াল জেনেটিক্স নিয়ে। উপসালায় তিনি কাজ করবেন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণের জেনেটিক বিশ্লেষণ নিয়ে। সোনিয়া জানান, দেশে ফিরেও সংক্রমণজনিত রোগগুলো নিয়ন্ত্রণে গবেষণাভিত্তিক কাজ করতে চান।
রিয়াজ-সোনিয়া মনে করেন, উচ্চশিক্ষার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে ধৈর্য, পরিবারিক সমর্থনও দরকার। বিশ্বাস করেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে একদিন জেনেটিকস ও ইনফেকশন বায়োলজির গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। যেখানে তারাও ভূমিকা রাখতে পারবেন।








