১২ দিনেও উদঘাটন হয়নি সামিরুন হত্যার রহস্য
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় থেকে এক কিশোরীর কালনী নদীতে ভাসমান লাশ উদ্ধারের ১২ দিন পার হলেও উদঘাটন হয়নি কোনো রহস্য।
মেয়ের শোকে পাগল প্রায় মা। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে হত্যাকারীদের বিচার চাচ্ছেন অসহায় পরিবারটি।
নিখোঁজ হওয়া নিহত সামিরুন আক্তার (১২) উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের পূর্ব পিটুয়ারকান্দি গ্রামের মৃত নবী হোসেনের মেয়ে।
গত ৩০ মার্চ বিকেল ৫টার দিকে সে নিখোঁজ হয় । ১ এপ্রিল কালনী নদী থেকে তার পড়নের গেঞ্জি ও পায়জামা দিয়ে হাত-পা বাঁধা বিবস্ত্র লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা।
পরে পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।
২ এপ্রিল নিহতের বড় বোন তৃষা আক্তার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে আজমিরীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ১১ দিন পার হলেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ এ ঘটনার কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। পিতাহীন পরিবারে ভারসাম্যহীন মায়ের ছয় বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সামিরুন পঞ্চম।
বেশ কিছুদিন ধরেই সামিরুন ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় কাজ করত। ঘটনার দুই সপ্তাহ আগে বাড়িতে আসে। বাড়ীর আসার পর নিজ গ্রামে একটি ওয়াজ মাহফিলের দিন নিখোঁজ হয় সে।
সরজমিনে গেলে, সামিরুনের মানসিক ভারসাম্যহীন মা সাহানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “নিখোজ হওয়ার আগে পিছন থেকে এসে আমার সামিরুন আমাকে জড়িয়ে ধরে আদর করেছিল। বুঝিনি, সেটাই ছিল আমার শেষ আদর।”মেয়ের বর্ণনা দিতে দিতে কয়েকবার অজ্ঞান হয়ে পরে সাহানা বেগম।
মামলার বাদী বড় বোন তৃষা আক্তার বলেন, এলাকার কয়েকজনকে আমার সন্দেহ হচ্ছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করি।
স্থানীয়রা ধারণা করছে , পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ হত্যাকাণ্ড হতে পারে ঘটনাটি । একা কেউই এমন ঘটনা ঘটাতে পারবে না।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বইছে । সামিরুন হত্যার প্রতিবাদে আজমিরীগঞ্জ সদর ও এলাকার স্থানীয়রা মানববন্ধন করেও কোনো ফায়দা মিলছে না। সামিরুনে হত্যার দ্রুত জড়িতদের বের করে শান্তি দাবি স্থানীয় এলাবাসীর।
আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে ভদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।







