২০২৫ সালে যাদের হারিয়েছে বিনোদন জগৎ
দেখতে দেখতে ২০২৫ সালের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে সময়। আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা—স্বাগত জানানো হবে নতুন বছর ২০২৬-কে। বিদায়ী বছরে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গন ছিল নানা ঘটনা, অর্জন ও আলোচনায় সরব। আনন্দ, সাফল্য ও গর্বের মুহূর্তের পাশাপাশি ২০২৫ বয়ে এনেছে গভীর শোকও। চলতি বছরে বিনোদন ও সংস্কৃতি জগৎ হারিয়েছে বহু গুণী মানুষকে—যাদের অবদান বাঙালির শিল্প, সংগীত ও অভিনয়ের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তারা কেউ ছিলেন সংগীতের বাতিঘর, কেউ অভিনয়ের রুপালি নক্ষত্র, আবার কেউ সংস্কৃতি আন্দোলনের অগ্রপথিক। আজ তারা আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাদের সৃষ্টিকর্ম, স্মৃতি ও প্রভাব থেকে যাবে প্রজন্মের পর প্রজন্মজুড়ে। চিরতরে হারিয়ে ফেলা দেশের এই গুণীজনের স্মরণ করতেই তারাবেলার আজকের আয়োজন—‘যাদের হারিয়েছে দেশের বিনোদন জগৎ’ লিখেছেন, সিনথিয়া আক্তারী
১. সনজীদা খাতুন
বাংলাদেশের সংস্কৃতি আন্দোলনের অগ্রদূত, সংগীতজ্ঞ ও ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সনজীদা খাতুন চলতি বছরের ২৫ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, নিউমোনিয়া ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করেছেন এই গুণী মানুষটি। ভাষা আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকে তিনি সক্রিয়ভাবে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২. ফরিদা পারভীন
১৩ সেপ্টেম্বর দেশের সংগীতাঙ্গনে নেমে আসে গভীর শোক। কিংবদন্তি লালন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে যায় শিল্পাঙ্গন। দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ৫৫ বছরের সংগীতজীবনে লালনগীতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেন। ‘মিলন হবে কত দিনে’, ‘অচিন পাখি’—এর মতো গান আজও বাঙালির আত্মপরিচয়ের অংশ।
৩. অঞ্জনা রহমান
চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি মারা যান তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করা জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঞ্জনা রহমান। নৃত্যশিল্পী থেকে নায়িকা হয়ে তিনি সর্বাধিক যৌথ প্রযোজনা ও বিদেশি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন। বাংলাদেশসহ ৯টি দেশের ১৩টি ভাষার সিনেমায় অভিনয় করে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা।
৪. প্রবীর মিত্র
অঞ্জনা রহমানের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই ৫ জানুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর মিত্র। ৮১ বছর বয়সে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রুপালি পর্দার ‘নবাব’ খ্যাত এই অভিনেতার প্রকৃত নাম মো. হাসান ইমাম। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকমহলে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি।
৫. গুলশান আরা আহমেদ
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ১৫ এপ্রিল মারা যান অভিনেত্রী গুলশান আরা আহমেদ। হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ পলি চেয়ারম্যান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নতুন প্রজন্মের কাছেও পরিচিতি পান। শেষবার অভিনয় করেন সিয়াম আহমেদের ‘জংলি’ সিনেমায়।
৬. এ কে রাতুল
২৭ জুলাই সংগীতাঙ্গন হারায় ব্যান্ড ‘ওন্ড’-এর ভোকালিস্ট ও বেজিস্ট এ কে রাতুলকে। উত্তরার একটি জিমে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তিনি প্রয়াত চিত্রনায়ক জসীমের পুত্র হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
৭. জেনস সুমন
২৮ নভেম্বর রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে মারা যান জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জেনস সুমন। ‘একটা চাদর হবে’ গানের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া এই শিল্পী উপহার দিয়েছেন অসংখ্যজনপ্রিয় গান।
৮. শেখ নজরুল ইসলাম
নির্মাতা শেখ নজরুল ইসলাম ২২ নভেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে তিনি মাইল্ড স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তার মৃত্যুতে নাট্য ও চলচ্চিত্রাঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।
৯. সাঙ্কু পাঞ্জা
ঢাকাই চলচ্চিত্রের খলঅভিনেতা সাঙ্কু পাঞ্জা ২৯ মে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যান। বহু চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
১০. তানিন সুবহা
২ জুন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন অভিনেত্রী তানিন সুবহা। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ১০ জুন চিকিৎসকরা তাকে ক্লিনিক্যালি ডেথ ঘোষণা করেন।







