২০২৫ সালে যেসব আলেম হারাল বাংলাদেশ
শেষ হতে চলেছে আরও একটি বছর। এই বছরেও স্মৃতিতে যুক্ত হয়েছে কিছু আনন্দ, উত্তেজনা ও বেদনার খবর। যুক্ত হয়েছে কিছু শোকের স্মৃতি। বিশেষ কিছু ব্যক্তির মৃত্যু করেছে শোকবিহ্বল। এই তালিকায় আছেন দেশ ও বিদেশের প্রথম সারির আলেম ও জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব। এখানে ২০২৫ সালে ইন্তিকাল করা বাংলাদেশের আলেম ও জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিদের কয়েকজন নিয়ে আলোচনা করা হলো-
মাওলানা রফিকুর রহমান
বছর শুরুর একদিন পরই ইন্তেকাল করেন মাওলানা রফিকুর রহমান। ২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে ইন্তেকাল করেন তিনি। জীবদ্দশয় প্রবীণ এই আলেম দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অভিভাবক পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে। একইসঙ্গে তিনি ছিলেন খুলনা দারুল উলুম মাদ্রাসার সাবেক নায়েবে মুহতামিম ও বাগমারা মারকাজুল উলুম মাদ্রাসার সদরুল মুহতামিম। মাওলানা রফিকুর রহমান ১৯৩৯ সালে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার তেলজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ৬ ছেলে, ৩ মেয়ে ও অসংখ্য অনুরাগী রেখে গেছেন।
মাওলানা মুকাদ্দাস আলী
৬৬ বছর ধরে বোখারি শরিফ পড়াতেন সিলেটের প্রবীণ আলেম ও শায়খুল হাদিস মাওলানা মুকাদ্দাস আলী। বুধবার ৮ জানুয়ারি সকালে ইন্তেকাল করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন শায়খ মুকাদ্দাস আলী। তিনি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মুনশিবাজার মাদ্রাসার শিক্ষক ও শাইখুল হাদিস ছিলেন।
১৯৩৩ সালে ভারত সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার বারগাত্তা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্তির পর ১৯৬০ সালে শায়খ মুকাদ্দাস আলী নিজ জন্মভূমি জকিগঞ্জ উপজেলার মুনশিবাজার মাদ্রাসায় শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবনে পা দেন। যোগদানের পরের বছরই তাকে মাদরাসার শায়খুল হাদিসের মসনদে সমাসীন করা হয়। সেই থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সেখানে একই পদে কর্মরত ছিলেন তিনি।
মাওলানা আবদুন নূর সদরঘাটি
সিলেটের দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া কাসিমুল উলুম দরগাহ হজরত শাহজালাল (রহ.) মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি মাওলানা আবদুন নূর সদরঘাটি ইন্তেকাল করেন ১৩ জানুয়ারি (সোমবার )। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মুফতি মাওলানা আবদুন নূর সদরঘাটির বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলর সদরঘাট (ইসলামপুর) এলাকায়।
মুফতি আব্দুল মালেক
পশ্চিম মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক ইন্তেকাল করেন ১৫ জানুয়ারি। মুফতি আব্দুল মালেক ১৯৬৯ সালে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানাধীন বাঘুটিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। শিক্ষার হাতে খড়ি হয় গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯৯৩ সালে দাওরা শেষ করেন লালবাগ মাদরাসা থেকে। তার উস্তাদদের মধ্যে মাওলানা আব্দুল হাই পাহাড়পুরী রহ. মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ. এবং লালবাগের বর্তমান শূরা প্রধান মাওলানা আব্দুল হাই উল্লেখযোগ্য।
মুফতি আব্দুল মালেকের কর্মজীনের সূচনা হয় ঢাকার ইসলামবাগ মাদরাসায় শিক্ষকতার মাধ্যমে। এরপর মানিকগঞ্জের বাস্তা আশ্রাফিয়া, গোবিন্দল জামিয়া রাশিদিয়া, ফাতেমা নবাব দারুল উলুম প্রভৃতি মাদরাসায় হাদিসের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তরুণ আলেম ও লেখক রায়হান খাইরুল্লাহ
পবিত্র উমরা পালন করতে গিয়ে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে সৌদি আরবে ইন্তেকাল করেন তরুণ লেখক গবেষক মাওলানা রায়হান খাইরুল্লাহ। ২৩ ফেব্রুয়ারি (রোববার) ইন্তেকাল করেন তিনি। তার ইন্তেকালের খবরে ইসলামি অঙ্গনে শোক ছড়িয়ে পড়েছিল।
মাওলানা লুৎফুর রহমান
কিশোরগঞ্জের জামিয়া ইমদাদিয়ার মুহাদ্দিস ও কাছারি মসজিদের ইমাম মাওলানা লুৎফুর রহমান ইন্তেকাল করেন ১৯ মার্চ (বুধবার)। তিনি প্রায় চল্লিশ বছর কিশোরগঞ্জের জামিয়া ইমদাদিয়ায় শিক্ষকতার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ‘তানযীমুল মাদারিসিল কাওমিয়া আল-আরাবিয়া’ গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।
মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী
বাংলাদেশের বর্ষীয়ান আলেম রাজনীতিবিদ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর সর্বকনিষ্ঠ সন্তান বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির ও দেশের অন্যতম শীর্ষ আলেম মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী ইন্তেকাল করেন ৪ এপ্রিল (শুক্রবার)। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে হাফেজ্জী হুজুর প্রতিষ্ঠিত জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার মুহতামিম ছিলেন। এছাড়া তিনি কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহসভাপতি ছিলেন। দেশের শীর্ষ আলেমদের মধ্যে তিনি শ্রদ্ধাভাজন হিসেবে গণ্য হতেন।
মাওলানা আব্দুল মান্নান দানিশ
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার সাবেক সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আব্দুল মান্নান দানিশ ইন্তেকাল করেন ২৫ এপ্রিল (শুক্রবার)। তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মাওলানা আমিনুল হক
২৬ এপ্রিল (শনিবার) একদিনের ব্যবধানে ইন্তেকাল করেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার সাবেক ছদরে মুহতামিম এবং সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আমিনুল হক। মাওলানা আমিনুল হক পটিয়া মাদরাসায় দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী আলেম ছিলেন। বুজুর্গ হিসেবেও তার ব্যাপক খ্যাতি ছিল। তাকে অনেকে ‘ফেরেশতা হুজুর’ বলে সম্বোধন করতেন।
মাওলানা সুলতান যওক নদভি
দেশের শীর্ষ আলেম, মাদরাসা শিক্ষা সংস্কারের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, জামেয়া দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া, চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ সুলতান যওক নদভি ইন্তেকাল করেন ২ মে (শুক্রবার)।
মাওলানা মুহাম্মদ সুলতান যওক নদভি চট্টগ্রামের জামেয়া দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সর্বশেষ ঘোষিত কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। এ ছাড়া তিনি কওমি মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষা বোর্ড আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের সভাপতি ও সৌদি আরবভিত্তিক আন্তর্জাতিক সাহিত্য সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল লিগ অব ইসলামিক লিটারেচারের বাংলাদেশ ব্যুরো চিফ হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৩৭ সালে মহেশখালীর জাগীরাঘোনা মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৯ সালে সালে আল-জামেয়া আল-ইসলামিয়া পাটিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন।
কাকরাইলের মুরব্বি মাওলানা ইউসুফ
কাকরাইল মারকাজ মাদরাসার শিক্ষক ও তাবলিগের মুরব্বি মাওলানা ইউসুফ ইন্তেকাল করেন ১৪ মে (বৃহস্পতিবার)।
মাওলানা আহমদ আব্দুল্লাহ চৌধুরী
রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বরের জামেউল উলুম মাদরাসার সাবেক নায়েবে মুহতামিম ও নাজেমে তালিমাত মাওলানা আহমদ আব্দুল্লাহ চৌধুরী ইন্তেকাল করেন ১৮ মে (রোববার)। মাওলানা আহমদ আব্দুল্লাহ চৌধুরীর বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার হিয়ালা গ্রামে। তিনি মুহাদ্দিস জামেউল উলুম ছাড়াও হবিগঞ্জের উমেদনগর মাদরাসা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দারুল আরকামে শিক্ষকতা করেছেন।
মাওলানা ওমর ফারুক
দ্বীপজেলা ভোলার বিশিষ্ট আলেম, হেফাজতে ইসলামের উপদেষ্টা মাওলানা ওমর ফারুক ইন্তেকাল করেন ২২ মে (বৃহস্পতিবার)। মাওলানা ওমর ফারুক প্রায় ৪০ বছর ধরে নিজের প্রতিষ্ঠিত ভোলা দারুল উলুম আজিজিয়া মাদরাসায় মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোরআনে কারিমের খেদমত করেছেন। তিনি অত্যন্ত মিষ্টভাষী ওয়ায়েজ ছিলেন। বুজুর্গ আলেম হিসেবেও তার পরিচিতি ছিল।
মাওলানা আব্দুল বাতেন ফরিদী
শরীয়তপুরের নশাসন কাওমিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার মুহতামিম ও বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলন শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি শায়খুল হাদিস হাফেজ মাওলানা আব্দুল বাতেন ফরিদী ইন্তেকাল করেন ২৬ জুন (বৃহস্পতিবার)।
মরহুম মাওলানা আব্দুল বাতেন ফরিদী একজন নিবেদিতপ্রাণ আলেম ছিলেন। শরীয়তপুরে ইসলামি শিক্ষা বিস্তার, তরবিয়াত ও সমাজ সংস্কারে তার বিশেষ অবদান ছিল। তিনি কয়েক যুগ ধরে ছাত্রদের হাদিসের দরস দান করে আসছিলেন এবং ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
হাফেজ মুহাম্মদ তৈয়ব
চট্টগ্রামের বিশিষ্ট আলেম, সেগুন বাগান তালীমুল কুরআন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শায়খুল হুফফাজ হাফেজ মুহাম্মদ তৈয়ব ইন্তেকাল করেন ২৮ জুলাই (সোমবার)। হাফেজ মুহাম্মদ তৈয়ব আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলন সংস্থা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান, মজলিসুল কুররা বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা, তালিমুল কুরআন কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
তাবলিগের মুরব্বি মাওলানা মোশাররফ হোসেন
তাবলিগ জামাতের প্রবীণ মুরব্বি মাওলানা মোশাররফ হোসেন ইন্তেকাল করেন ৩০ আগস্ট (শনিবার)। তাবলিগের কাজে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন। তিনি শখছি নেজামের বিশ্ব ইজতেমায় জুমার নামাজের ইমামতি করতেন।
মাওলানা মুফতি মুহাম্মাদ হাসান
বহুমুখী ইসলামি সেবা সংস্থা আল-মারকাজুল ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুফতি মুহাম্মাদ হাসান ইন্তেকাল করেন ১৪ সেপ্টেম্বর (রোববার)। তিনি মারকাজুল ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মুফতি শহিদুল ইসলামের সহযোগী ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি প্রতিষ্ঠানটির সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে কাজ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক খ্যাতি অর্জনের পেছনে তার ভূমিকা রয়েছে।
মুফতি হাফেজ আহমদুল্লাহ
দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার শাইখুল হাদিস, প্রধান মুফতি ও সদরুল মুহতামিম প্রবীণ আলেম মুফতি হাফেজ আহমদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন ১৪ সেপ্টেম্বর (রোববার)। মুফতি হাফেজ আহমদুল্লাহ ১৯৪১ সালের ১২ মে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার নাইখাইন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম মুহাম্মদ ইসা। তার নানা মুজাহিদে মিল্লাত মাওলানা শাহ আহমদ হাসান (রহ.) ছিলেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আল জামিয়াতুল আরবিয়াতুল ইসলামিয়া জিরি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠিতা।
বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকী
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী। ২৮ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ইন্তেকাল করেন তিনি। হাফেজ ত্বকী জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি এনটিভিতে প্রচারিত কুরআনের আলো অনুষ্ঠানসহ দেশের বিভিন্ন কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হন।
বিশ্বের একাধিক দেশে কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী। ২০১৭ সালে জর্ডানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৬২টি দেশকে পেছনে ফেলে প্রথম হন হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী। পরবর্তী সময়ে কুয়েত ও বাহরাইনেও তিনি কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেন। কুমিল্লা মুরাদনগরের ডালপা গ্রামে ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করেন হাফেজ ত্বকী। বাবা মাওলানা বদিউল আলম পেশায় একজন মাদরাসা শিক্ষক।
মাওলানা নুরুল হুদা ফয়েজী
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব, বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব ও জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মাওলানা নুরুল হুদা ফয়েজী ইন্তেকাল করেন ১১ নভেম্বর (মঙ্গলবার)।
মাওলানা নুরুল হুদা ফয়েজী দীর্ঘদিন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। সারাদেশে বিস্তৃত বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষাবোর্ডের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আলেম হিসেবে তিনি সারাদেশে প্রসিদ্ধ ছিলেন।
মাওলানা মাহমুদুল হাছান রায়গড়ী
সিলেটের প্রবীণ আলেম ও গোয়াইনঘাটের দারুস সালাম লাফনাউট মাদরাসার দীর্ঘদিনের শায়খুল হাদিস মাওলানা মাহমুদুল হাছান রায়গড়ী ইন্তেকাল করেন ১৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)।
মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কাসেমী
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কাসেমী ইন্তেকাল করেন ২৯ নভেম্বর (শনিবার)। মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কাসেমী জমিয়ত ও হেফাজতের সাবেক মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর ছোট ভাই ছিলেন। তিনি রাজধানীর মাদানীনগর মাদরাসা ছাড়াও একাধিক মাদরাসায় হাদিসের দরস দিতেন।
মাওলানা মাহবুবুল হক
রাজধানীর লালমাটিয়া মাদরাসার শায়খুল হাদীস মাওলানা মাহবুবুল হক ইন্তেকাল করেন ১৫ ডিসেম্বর। মাওলানা মাহবুবুল হক (রহ.) দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে লালমাটিয়া মাদরাসায় শায়খুল হাদীস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তিনি দেশের একাধিক প্রসিদ্ধ মাদরাসায় শায়খুল হাদীস হিসেবে দায়িত্ব পালন কেরছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলায়।








