সিলেটের ১৩ স্টেশনে পাথর আমদানি বন্ধ

চুনাপাথর ও বোল্ডার পাথর আমদানিতে পাঁচ মাসের মাথায় আবারও শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু (কাস্টমস নির্ধারিত আমদানি করা পণ্যের ক্রয়মূল্য) বাড়িয়ে দিয়েছে সিলেটের কাস্টমস বিভাগ। ফলে প্রতি টনে এখন থেকে ২ ডলার বাড়তি দিতে হবে আমদানিকারকদের। তবে কাস্টমসের এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ ব্যবসায়ীরা।
শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিলেটের আমদানিকারকেরা দুদিন ধরে বিভাগের ১৩টি শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে চুনাপাথর ও বোল্ডার পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এর আগে গত আগস্টে আমদানি করা পাথরের ওপর বাড়তি শুল্কায়ন ১ ডলার বাড়িয়ে ১১.৭৫ ডলার করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পাঁচ মাসের মাথায় এনবিআর সিলেট অঞ্চলের স্থলবন্দরগুলোতে ভারত থেকে আমদানি করা বোল্ডার স্টোন, স্টোন চিপস এবং লাইমস্টোন পাথরের ওপর অতিরিক্ত শুল্কায়নের নির্দেশ দিয়েছে। সেই অনুযায়ী কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেটের কমিশনার ৪ জানুয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে ৮ জানুয়ারি থেকে বাড়তি শুল্কায়ন মূল্য কার্যকর করার কথা জানান। নতুন শুল্ক কার্যকরের দিন গত সোমবার দুপুরে তামাবিল স্থলবন্দরে স্থানীয় আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সভা হয়। এতে ব্যবসায়ীরা বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধের ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে তামাবিল চুনাপাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি এম লিয়াকত আলী বলেন, এনবিআর ভারত থেকে পাথর ও চুনাপাথর আমদানির ওপর অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু প্রতি টনে অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেয়। এই বাড়তি শুল্ক দিয়ে পণ্য আমদানি করতে হলে আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই তামাবিলসহ সিলেটের সব কটি বন্দর ও শুল্ক স্টেশন দিয়ে পাথর ও চুনাপাথর আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।
তামাবিল স্থলবন্দর শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘সোমবার থেকে আমাদের স্থলবন্দর বন্ধ রয়েছে। কাজেই আমরা কাজ পাচ্ছি না। প্রায় কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছি। এতে অনেকেই অনাহারে আছি। অচিরেই যাতে স্থলবন্দর খোলা হয়, এটাই আমাদের চাওয়া।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেটের কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, ‘আপাতত শুল্ক কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। আমরা পরে আবার সেটা পুনর্মূল্যায়ন (রিভাইজ) করব।’
সিলেট বিভাগে ১৩টি শুল্ক স্টেশন দিয়ে পাথর, চুনাপাথর, কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে গোয়াইনঘাটের তামাবিল, কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, সুনামগঞ্জের বাগলি, বড়ছড়া ও চারাগাঁও; ছাতকের ইছামতী ও চেলা স্টেশন দিয়ে চুনাপাথর ও পাথর আমদানি হয়ে থাকে।







