সাবেক এমপি এহিয়া চৌধুরীর নামে মামলা

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ৪ঠা আগষ্ট সিলেট নগরীর কুমারপাড়া পয়েন্টে ছাত্রজনতার উপর স্হানীয় ১৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সাজোয়ান আহমদের নেতৃত্বে দিনভর হামলা নির্যাতন চালানো হয়। এতে শতাধিক ছাত্রজনতা হতাহত হয়। অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আসে আবার গ্রেফতার আতংকে পুরোপুরি চিকিৎসা না নিয়ে অনেকে শরীরে স্প্রিন্টার নিয়ে ছাড়পত্র না নিয়েই চলে আসে। পরবর্তীতে এরা অবশ্য চিকিৎসা নেয়।
৪ আগষ্টের হামলায় আহত স্হানীয় কুমারপাড়ার বাসিন্দা সাবুর আলী সাবু ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সাজোয়ান আহমদকে প্রধান আসামি করে প্রায় ৮৪ জনের নাম উল্লেখ করে গত পহেলা অক্টোবর সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলা নং ৬১৮৩ (৩)/৫, ০২/১০/২০২৪।
মামলায় সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এহিয়া চৌধুরী ইয়াহইয়াকে চার নাম্বার আসামি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সিলেট-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খানের কাছে তিনি পরাজিত হন। তিনি গত সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।
স্হানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, সাবেক এমপি এহিয়া চৌধুরী স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের দোসর হিসেবে তাঁর নির্বাচনী এলাকা বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ ও সিলেটে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত অনেক নেতাকর্মীকে হয়রানি ও নির্যাতন করেছেন। এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ স্বরুপ গত ৫ আগষ্ট বিকেলে তাঁর সিলেটের ঝেরঝেরীপাড়াস্হ বাসভবনে ক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায়, যদিও এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় তেমন ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি।
এছাড়াও তাঁর ছোটভাই সালমান চৌধুরী শাম্মি গত ২০১৮ সালের সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনের দিন তাঁর সিলেটের বাসা থেকে তৎসংলগ্ন নির্বাচনী সেন্টারে তাঁরই প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলা চালিয়ে সেন্টার দখল করে তাঁর ভাইয়ের পক্ষে জালভোট করার অভিযোগ রয়েছে।







