সুনামগঞ্জের ইউনিয়নের খাদ্য গোদামগুলো পরিত্যক্ত
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার ইউনিয়ন প্রর্যায়ে কৃষকদের স্বার্থে নির্মিত খাদ্য গোদামগুলো বর্তমানে কোনো কাজেই আসছে না। কিছু কিছু পরিত্যক্ত খাদ্য গোদামগুলোতে এখন মাদক সেবীদের আড্ডা, নোংরামি আর জুয়ার হাট বসছে প্রতিদিন। অনেকেই ভবন এলাকার জায়গা দখলে নিয়ে বসবাস করছে। অথচ একটি সময় কৃষকদের আনা গোনা আর দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের ব্যস্ততায় সরগরম ছিল গোদাম এলাকা ও আশপাশ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাকিস্তান আমলে ও ১৯৮০ সালে জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে তাহিরপুর, ধর্মপাশা, শাল্লা সহ বিভিন্ন উপজেলার ইউনিয়ন প্রর্যায়ে কৃষকদের সুবিধার্থে খাদ্য গোদামসহ অফিস কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছিল। এসব খাদ্য গোদামের দায়িত্বশীলগন কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ম মেনে সংগ্রহ করতো। কিন্তু এসব গোদামগুলো কয়েক বছর চলার পর তৎকালীন সময়ে নানা জটিলতার কারন দেখিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সরকারী টাকার ব্যয়ে নির্মিত ভবন গুলোর কৃষকের কোনো কাজেই আসছে না। জানা গেছে, গত তিন যুগ ধরে দখলে, দুষণে, ভবন গুলোর পলেস্তার খসে পড়াসহ নানা সমস্যায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন গুলো ঠায় দাড়িয়ে আছে। তবে চেনার কোনো উপায় নেই।
জেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ০.৪৭ একর জায়গাও ৬টি, বিশ্বম্ভম্বরপুরে ০.২৮ এক জায়গায় ২টি, দিরাই ০.৫৫একর জায়গাৗ ৫টি, ধর্মপাশা ০.৫৩ একর জাযগায় ৫টি, শান্তিগঞ্জে ০.৬৪ একর জাযগায় ৭টি, জামালগঞ্জে ০.৬৫ একর জায়গায় ৫টি, তাহিরপুরে ৬৮ একর জায়গায় ৪টি, দোয়ারাবাজারে ০.৯০ একর জায়গায় ৫টি, ছাতক ১.২০৫ এক জায়গায় ৮টি, শাল্লা ০.৬৬ একর জায়গায় ৪টি, জগন্নাথপুরে ০.৭৯ একর জায়গায় ৮টি গোদাম রয়েছে।
জেলা ও উপজেলার সচেতন মহল এবং স্থানীয় বাসিন্দাগন বলছেন, এই গোদামগুলো কৃষকদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে ধান সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালিত হলে প্রত্যান্ত এলাকার কৃষকগন উপকৃত হতো। তাদের টাকা, সময় বেঁচে যেত আর কষ্ট করে উপজেলা সদরে আসতে হতো না।
জেলার ধর্মপাশা উপজেলা জয়শ্রী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষক আলী নেয়াজ জানান, জয়শ্রী বাজারের পাশে সরকারী খাদ্য গোদামে মাদকাসক্ত তরুণেরা এখানে এসে দিনে রাতে মাদক সেবন করছে, জুয়া খেলায় বসে এবং অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে।
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মোতালেব জানান, এরশাদ সরকারের আমলে এই গোদামে ধান রাখতে পারতাম। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়,এরপর আজও চালু হয়নি। সরকারী ভবন আছে,নেই কোনো কার্যক্রম। তবে গোদাম গুলো চালু হলে আমাদের জন্য ভাল হতো।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা শক্তিয়ারখলা গ্রামের কৃষক জামিল মিয়া জানান, উপজেলার খাদ্য গোদামে পরিবহন খরচ বেশি সময়ও নষ্ট হয়। ইউনিয়ন প্রর্যায়ে ধান সংগ্রহ করলে আমাদের উপকার হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, জেলায় প্রতিটি উপজেলার ইউনিয়ন প্রর্যায়ে খাদ্য গোদাম গুলোর কৃষকদের স্বার্থেই নির্মান করা হয়েছিল। সব গুলো এখন ব্যবহারে অনুপযোগী। মোট ৫৯টি গোদাম রয়েছে ৭.৩৫৫ একর জায়গায়। এর মধ্যে বেশীর ভাগ দখলে চলে গেছে। এ বিষয়ে উর্ধবতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এই গুলো চালু করতে হলে আগে দখল হওয়া জায়গা উদ্ধার করতে হবে,এরপর মেরামত করতে হবে। ভবন গুলো চালু করা গেলে কৃষকদের উপকারে আসবে।








