৭ কোটি বছর পুরনো ক্যানিয়ন, রহস্যে ভরা প্রাকৃতিক বিস্ময়
গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন জাতীয় উদ্যান বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ও পরিদর্শিত স্থানগুলোর মধ্যে একটি হলেও, এটি এখনো কিছু বিস্ময়কর তথ্য লুকিয়ে রেখেছে। চলুন, জেনে নিই।
আমরা জানি না এটি ঠিক কত পুরনো
আগে মনে করা হতো যে কলোরাডো নদী প্রায় ৬ কোটি বছর আগে ক্যানিয়ন খোদাই শুরু করেছিল। তবে ২০১২ সালে এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়াটি সম্ভবত ৭ কোটি বছর আগে শুরু হয়েছিল। সম্ভবত, গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ছোট ছোট গিরিখাতের একটি সিরিজ হিসেবে শুরু হয়েছিল, কিন্তু বড় অংশটি সম্প্রতি তৈরি হয়েছে।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন নিজের আবহাওয়া তৈরি করে
উচ্চতার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে এখানে আবহাওয়া অনেকটা ভিন্ন হয়ে থাকে। নর্থ রিমের ব্রাইট অ্যাঞ্জেল রেঞ্জার স্টেশনে সবচেয়ে ঠাণ্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়া থাকে, আর মাত্র ৮ মাইল দূরে ফ্যান্টম র্যাঞ্চে সবচেয়ে গরম ও শুষ্ক পরিবেশ।
এটি পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ক্যানিয়ন নয়
তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের চেয়ে দ্বিগুণ গভীর—১৭,৫৬৭ ফুট।গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের গভীরতা ৬,০৯৩ ফুট।
এখানে ডাইনোসরের হাড় পাওয়া যায় না
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের শিলাগুলো ডাইনোসরের চেয়ে অনেক পুরনো, তাই এখানে কখনো ডাইনোসরের হাড় পাওয়া যায়নি।
কিন্তু অন্যান্য জীবাশ্ম আছে
প্রায় ১.২ বিলিয়ন বছরের পুরনো সামুদ্রিক জীবাশ্ম থেকে শুরু করে ১০,০০০ বছর আগে ক্যানিয়নের গুহায় পাওয়া স্থল স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহাবশেষ—সব মিলিয়ে এখানে বিভিন্ন জীবাশ্ম পাওয়া যায়।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মাছ খুবই অদ্ভুত
কলোরাডো নদীর কঠিন পরিবেশের কারণে এখানে মাত্র আটটি মাছের প্রজাতি বাস করে।এর মধ্যে ছয়টি প্রজাতি অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে একটি ছোট গ্রাম আছে
সুপাই গ্রাম হাভাসুপাই ইন্ডিয়ান রিজার্ভেশনের অংশ। এখানে মাত্র ২০৮ জন মানুষ থাকে এবং ডাক পৌঁছে দেওয়া হয় প্যাক মিউলের মাধ্যমে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রত্যন্ত জনবসতি।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের কিছু অংশ হারাচ্ছে
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন শিলা ও শিলাস্তরের সংযোগকে গ্রেট আনকনফর্মিটি বলা হয়। প্রায় ২৫০ মিলিয়ন বছরের শিলা ১.২ বিলিয়ন বছরের শিলার সাথে যুক্ত, তবে এই কয়েক শ মিলিয়ন বছরের মধ্যে কী ঘটেছিল তা এখনো রহস্য।
সূত্র : ন্যাশনাল পার্ক ফাউন্ডেশন






