ই-ভিসা ও পাসপোর্ট লিঙ্কিং জটিলতা: বিমানে উঠতে পারছেন না লন্ডনগামী যাত্রীরা!
ই-ভিসা ও
যুক্তরাজ্যের বৈধ ভিসা, নিশ্চিত টিকিট এবং প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে লন্ডনগামী বহু যাত্রীকে বিমানে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। ই-ভিসা চালুর প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং পাসপোর্ট তথ্য আপডেট না থাকার কারণে বিমানবন্দরগুলোতে তৈরি হয়েছে চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা।
গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ঢাকা ও সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে নিয়মিত ঘটছে এমন ঘটনা। স্টুডেন্ট ভিসা, ডিপেন্ডেন্ট ভিসা এমনকি যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত যাত্রীরাও চেক-ইন কাউন্টার থেকে ফেরত আসছেন। এতে একদিকে যাত্রীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র মানসিক চাপ ও উদ্বেগ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য সরকার ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধরনের ফিজিক্যাল ভিসা ডকুমেন্ট (যেমন বিআরপি কার্ড) বাতিল করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ই-ভিসা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে।
অনেক প্রবাসী ইতোমধ্যে তাদের বিআরপি থেকে ই-ভিসায় মাইগ্রেট করলেও নতুন বাংলাদেশি পাসপোর্টের তথ্য ইউকে ভিসা অ্যান্ড ইমিগ্রেশন (UKVI) অ্যাকাউন্টে আপডেট করেননি। ফলে এয়ারলাইন্সের সিস্টেম যখন পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে ব্রিটিশ হোম অফিসের ডাটাবেসে যাচাই করে, তখন সেখানে ‘নো ভ্যালিড ভিসা’ বা ‘সিস্টেমেটিক এরর’ দেখাচ্ছে।
এই ভুল তথ্যের কারণে যাত্রীদের বোর্ডিং পাস ইস্যু করা যাচ্ছে না এবং তাদের ফ্লাইট থেকে অফলোড করা হচ্ছে।
সিলেটের যাত্রী শফিকুর রহমান জানান, তিনি ও তার স্ত্রী একই ধরনের বৈধ ভিসায় যুক্তরাজ্য যাচ্ছিলেন। বিমানবন্দরে তার স্ত্রীর বোর্ডিং পাস ইস্যু হলেও কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই শফিকুর রহমানের বোর্ডিং পাস আটকে দেওয়া হয়।
টিকিট নন-রিফান্ডেবল হওয়ায় স্ত্রীকে একাই যুক্তরাজ্যে পাঠিয়ে তিনি দেশে থেকে যান। এতে পুরো টিকিটের অর্থ গচ্চা গেছে এবং পরিবারে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের মানসিক বিপর্যয়।
আরেক যাত্রী জানান, ম্যানচেস্টারগামী ফ্লাইটে ওঠার সময় সিস্টেম এরর দেখিয়ে তাকে আটকে দেওয়া হয়, অথচ একই ফ্লাইটে তার পরিবারের অন্য সদস্যরা যেতে পেরেছেন। তিনি বলেন, “৩০ জানুয়ারি অন্তত ৭ থেকে ১০ জন যাত্রীকে একইভাবে অফলোড করা হয়েছে, দিন দিন এই সংখ্যা বাড়ছে।”
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ বলেন,
“এটি সিলেট বিমানবন্দর বা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব কোনও সমস্যা নয়। চেক-ইনের সময় ব্রিটিশ হোম অফিসের সার্ভার থেকে ক্লিয়ারেন্স না আসায় বোর্ডিং পাস দেওয়া যাচ্ছে না।”
তিনি যাত্রীদের ব্রিটিশ হোম অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন এবং বিমানের স্টেশন ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশনা দেন।
তবে বিমানের সিলেট স্টেশন ম্যানেজার শাকিল আহমদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বিমানের একটি সূত্র জানায়, অনেক যাত্রীর ক্ষেত্রে হোম অফিসের ‘রেস্ট্রিকশন’ দেখানোয় বাধ্য হয়ে তাদের অফলোড করতে হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লন্ডন অফিস থেকে হোম অফিসের সঙ্গে কোনও সমন্বয় হয়েছে কিনা জানতে ইউকে ও আয়ারল্যান্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার রিয়াদ সুলাইমানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনের একটি ‘ট্রানজিশন সমস্যা’। তবে এতে সাধারণ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সচেতন মহলের মতে—দ্রুত বিমান সংস্থাগুলোকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে যাত্রীদের পাসপোর্ট ও ই-ভিসা লিঙ্কিং বিষয়ে গণসচেতনতা বাড়াতে হবে। হোম অফিসের সার্ভার সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন
অফলোড হওয়া যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ ও বিকল্প ফ্লাইট নিশ্চিত করতে হবে।
যুক্তরাজ্যগামী হাজারো যাত্রীর জন্য এই সংকট এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







