সিলেটে শান্তিপূর্নভাবে ভোটগ্রহণ চলছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিলেট জেলায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই নগর ও জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সকাল সাড়ে সাতটায় ভোটগ্রহণ শুরুর নির্ধারিত সময় থাকলেও কোথাও কোথাও পাঁচ থেকে সাত মিনিট বিলম্বে কার্যক্রম শুরু হয়।
পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে। শুরুতে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। নারী, পুরুষ, তরুণ ও প্রবীণ—সব বয়সী ভোটারদের অংশগ্রহণে অনেক কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়ে। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন, কেউ প্রতিবেশীদের সঙ্গে কেন্দ্রে হাজির হয়েছেন। ভোটকেন্দ্রের বাইরে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় তাদের। অনেকেই জানান, দীর্ঘ সময় পর ভোট দিতে পারার অনুভূতি ভিন্ন রকমের। নাগরিক দায়িত্ববোধ ও অংশগ্রহণের আনন্দে তারা উচ্ছ্বসিত।
ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই নির্বাচন কর্মকর্তারা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, সিল, ভোটার তালিকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত করেন। পোলিং কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তদারকিতে পুরো প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতিটি কেন্দ্রে টহল দিতে দেখা গেছে। কোথাও পুলিশ, কোথাও র্যাব, আবার কোথাও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক ও ম্যাজিস্ট্রেটদেরও বিভিন্ন কেন্দ্রে পরিদর্শনে দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিলেটে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হচ্ছে—যা গণতান্ত্রিক চর্চার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





