মানসিক চাপ কমায় যেসব খাবার
জীবনের চলার পথে নানা জটিলতায় মানসিক উদ্বেগের শিকার কমবেশি সবাই। পারিবারিক ও অফিসের অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা মানসিক বিষণ্নতার একটি বড় কারণ। তবে এ সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে বেশ কয়েকটি খাবার তা কি জানেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতিতে এমন কিছু খাবার রয়েছে যা মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। আমেরিকান স্বাস্থ্য তথ্য প্রদানকারী ওয়েবসাইট হেলথ লাইন অনুসারে আসুন জেনে নিই সেসব খাবারের নাম-
পালংশাক: যখন আমরা মানসিক চাপে থাকি আমাদের মাংসপেশিগুলো টাইট হয়ে পড়ে। এই সময়ে আমরা কোনো কিছু চিন্তা করতে পারি না। ঘুমাতে সমস্যা হয় ও রক্তচাপ বেড়ে যায়। যে পুষ্টিটি এসব উপসর্গকে প্রশমিত করতে পারে তা হলো ম্যাগনেসিয়াম। কিন্তু মানসিক চাপে থাকলে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা কমে যায়। ‘ডায়েট ডায়াগনোসিস: নেভিগেটিং দ্য মেইজ অব হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন প্লানস’ বইয়ের লেখক ডেভিড নিকো বলেন, ‘পালংশাকের মতো সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এটি মানসিক চাপ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
গাজর: নিউট্রিশন নুপটিয়ালসের প্রতিষ্ঠাতা মান্ডি এনরাইট বলেন, ‘মানসিক চাপ কমানোর অন্যতম সেরা খাবার হচ্ছে তাজা সবজি ও ফল। এরমধ্যে গাজর ও আপেল মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি চোয়ালের অনমনীয়তা দূর হয়। চিবিয়ে বা কামড়ে খেতে হয় এমন খাবার ফোকাসকে পুনর্নির্দেশিত করতে পারে এবং মানসিক চাপ কমাতে পারে।
বেরি জাতীয় ফল: ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি, স্ট্রবেরি ইত্যাদি ফলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে। এই ধরনের ফলগুলো মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সচল ও সজীব রাখে।
গ্রিন টি: ল্যাভেন্ডার বা ক্যামোমাইল ইত্যাদি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ চা স্নায়ুকে শান্ত রাখে। এ ছাড়া চা পানের অভ্যাস শরীরের দূষিত পদার্থ বাইরে বের করে দেয়।
টক দই: টক দই মানসিক চাপ কমাতে খুবই উপকারী। টক দইয়ের ব্যাকটেরিয়া আমাদের দেহে আত্মবিশ্বাস ও সাহস বাড়ায়। পাশাপাশি চাপ কমায়। টক দই খেলে সাময়িকভাবে মানসিক অশান্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
ডার্ক চকোলেট: দুশ্চিন্তা কমাতে খেতে পারেন ডার্ক চকোলেট। ডার্ক চকোলেটে রয়েছে এমন কিছু পুষ্টি যৌগ যা মানসিক অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে।
বাদাম: কাঠবাদাম, আখরোট, চিনেবাদামে রয়েছে ভরপুর প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, এবং সবচেয়ে উপকারী উপাদান ম্যাগনেশিয়াম। বাদামের এই সব উপাদান মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
ভিটামিন সি: কমলালেবু, আঙুর, গাজর, পালংশাক, বাঁধাকপি, লেটুস পাতার মতোকিছু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার স্নায়ুকে শান্ত রাখতে এবং উদ্বেগ কমাতে অত্যন্ত সহায়ক।
রসুন: রসুনের শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খুবই সহায়ক। নিয়মিত রসুন খেলে আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে মানসিক চাপও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ওটস: প্রচুর আঁশযুক্ত ওট খাবার শরীরের নানা চাহিদা মেটায়। বিশেষত মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ নামের শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট তৈরিতে খুবই সহায়ক ওট। সেরোটোনিন এমন এক রাসায়নিক যৌগ যা আমাদের মস্তিষ্কে ‘ভালো লাগার’ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। এই অনুভূতি মানসিব অবসাদ দূর করতে দারুণ কার্যকর। তাই সকালের নাশতায় কিংবা রাতেও নিয়ম করে ওট খেতে পারেন।
অন্যান্য: এছাড়া স্যালমন, হলুদ, ব্লুবেরি, ডিম, টার্কি, কলা, চিয়া সিড, সাইট্রিক জাতীয় ফল মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমাতে দারুণ কার্যকরী।






