পুলিশের ওয়াকিটকি কাণ্ডে ফেসে গেলেন দুই যুবক
পুলিশের ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারের গ্যাস রি-ফিল করতে গিয়ে ফেঁসে গেল দুই যুবক। সোমবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে সিলেটের বিমানবন্দর থানা এলাকার এডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড পার্কের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার বিকেলে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত একজন হলেন-উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহবায়ক লিটন মিয়া (৩০)। আরেকজন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কলাবাড়ী গ্রামের সৈইবুর রহমানের ছেলে জুনায়েদ আহমেদ (২৮)। এ দুই যুবককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর কারনে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, একটি প্রাইভেটকার যোগে সিলেটস্থ চৌকিদেখি গ্যাস পাম্পে রি-ফিলিং করতে যাওয়াকালে পুলিশ চেকপোস্টে থাকা সদস্যরা সিগন্যালে গাড়ি পার্ক করেন ড্রাইভার জুনায়েদ। গাড়ি পার্ক করলে এয়ারপোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক মুনির মিয়া ভুক্তভোগী দুই যুবকবাহী প্রাইভেট চেক করলে একটি ওয়াকিটকি ও একটা দেশীয় কুড়াল পায়। এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মুনির মিয়া বাদী হয়ে ২জন নামীয় সহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করে এয়ারপোর্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে দেশীয় কুড়ালকে চাইনিজ কুড়াল আখ্যায়িত করা হয়। এজাহারে একটি ওয়াকিটকি, একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি প্রাইভেট কার জব্দ দেখানো হয়।
আরও জানা গেছে, প্রাইভেটকারের মালিক কোম্পানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক কামরুল আলম। ওয়াকিটকির মালিকও তিনি। এছাড়াও জব্দ তালিকায় থাকা কুড়ালটি ঘটনার দিন পাড়ুয়া এলাকা থেকে জব্দ করেন উপ পরিদর্শক কামরুল আলম। ঘটনার আধাঘন্টা পূর্বে কামরুল আলমের নির্দেশে জুনাইদ আহমদ গ্যাস রি-ফিলিং করতে সিলেট রওয়ানা হোন। অন্যদিকে লিটন মিয়া তার ব্যক্তিগত পাওনা টাকা আনার জন্য সেই প্রাইভেটকারে চড়ে এয়ারপোর্ট বাইপাসে রওয়ানা হোন।
এদিকে এয়ারপোর্ট থানায় গাড়ি, ওয়াকিটকি ও কুড়াল জব্দের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপ-পরিদর্শক কামরুল আলম। সেখানে ছুটে গেলেও জব্দকৃত গাড়ি ও মালামাল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে না পেরে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ফিরে আসেন। পরবর্তীতে সরকারি ওয়াকিটকি বেহাত হওয়ায় উপ পরিদর্শক কামরুল আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম খাঁন।
স্থানীয় চুনাপাথর ব্যবসায়ী নাসির আহমদ জানান, ২০২৪ এর আগস্ট পরিবর্তী সময়ে শাহ আরফিন টিলার পাথর লুটপাটে জড়িত একটি পক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ছিল পুলিশের উপ-পরিদর্শক কামরুল আলম। অন্যদিকে স্থানীয় কিছু অসাধু সংবাদকর্মী শাহ আরফিন টিলার পাথর লুটপাটকারীদের সহায়তা করে আসছে। অনেকে চাঁদাবাজির সাথে জড়িত। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কঠোর অবস্থানে ছিল লিটন মিয়া। এতে স্থানীয় একাধিক সংবাদকর্মী তার বিরুদ্ধে নানান সময়ে ষড়যন্ত্র করে আসছে। আমার মনে হচ্ছে সেই সকল ব্যক্তিরা ইচ্ছাকৃত ভাবেই তাদেরকে ফাসিয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব আহমদ বলেন, লিটন মিয়াকে ষড়যন্ত্র করে ফাসানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সে দীর্ঘদিন যাবত দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক এ মামলার তীব্র নিন্দা জানাই।
সদ্য সাময়িক বহিষ্কৃত উপ-পরিদর্শক কামরুল আলম প্রতিবেদককে জানান, রাত সাড়ে ১১টায় হঠাৎ খবর আসে শাহ আরফিন টিলাকে কেন্দ্র করে পাড়ুয়া এলাকায় সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে একটি পক্ষ। তারপর গাড়ি নিয়ে দ্রুত পাড়ুয়া এলাকায় চলে যাই। এ সময় সংঘর্ষে ব্যবহৃত একটি দেশীয় কুড়াল উদ্ধার করে গাড়িতে রাখি। একপর্যায়ে গাড়ির গ্যাস রি-ফিলিং করতে জুনায়েদকে শহরে যেতে বলি। এসময় লিটনও ধুপাগুলে যেতে গাড়িতে উঠেন। তরিঘড়ি থাকায় গাড়িতে থাকা ওয়াকিটকি ও উদ্ধারকৃত কুড়ালটি সংগ্রহে নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রাইভেটকার ও ওয়াকিটকি আমার।
সত্যতা নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানার ওসি শাহ মো. মোবাশ্বির আলী বলেন, আটক দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিকেলে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।






