সরকারি আশ্রয়ণ কেন্দ্রের রাস্তার মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ
ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের কুমারকান্দি সরকারি প্রকল্প আশ্রয়ণ কেন্দ্রে যাতায়াতের রাস্তা থেকে মাটি কেটে সরিয়ে অভিযোগ উঠেছে কুমারকান্দি গ্রামের রবি মিয়ার বিরুদ্ধে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমারকান্দি গ্রামের হাজী আব্দুর রউফ মিয়ার পুত্র মোঃ রবি মিয়া এস্কেভেটর দিয়ে রাস্তার মাটি সরিয়েছেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার রাস্তা কেটে মাটি সরানোর ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
আশ্রয়ণকেন্দ্র বসবাসকারী পরিবারগুলো রাষ্ট্রীয় সহায়তায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন। কিন্তু তাদের যাতায়াতের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত করায় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে আশ্রায়ণ প্রকল্পের রাস্তাটি ও সরকারি। এ রাস্তাটি জোরপুর্বক কেটে নেয়ায় অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা নেই। আশ্রায়ণ প্রকল্পে থাকা লোকজনের চলাচল ও শিশুরা স্কুলে যাতায়াত করতে পারছেনা। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য যানবাহন এ রাস্তায় ঢুকানো যাচ্ছেনা।
৩ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে গিয়ে কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,তাদের মুখ না খুলতে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে, রাস্তার মাটি কাটার বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবগত করা হয়েছে। তারা (জনপ্রতিনিধিরা) বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
অভিযুক্ত মোঃ রবি মিয়া জানান, তিনি একজন প্রবাসী এবং তার রেকর্ডকৃত জমির ওপর দিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেলের দায়িত্বকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য দের শর্তসাপেক্ষে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। তখন তাকে জমির পরিবর্তে জমি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, যা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি দাবি করেন, এলাকার বিভিন্ন স্থানে রাস্তা নির্মাণে তিনি ও তার আত্মীয় স্বজন ব্যক্তিগত জমিও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল অদুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও সন্তোষজনক সমাধান পাননি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাস্তা কাটা তার মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং সেখানে একটি কালভার্ট বা পাইপ স্থাপন জরুরি। তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত কামনা করেছেন এবং জমির পরিবর্তে জমি পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
সিংচাপইড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল অদুদ জানান, রবি মিয়া জমির পরিবর্তে জমি দাবির বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন।রাস্তা কাটার বিষয়টি তিনিশুনেছেন এবং রবি মিয়ার বড় ভাই আমিরুল হকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি উভয় পক্ষ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শক্রমে সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান শান্ত বলেন, রাস্তা নির্মাণের সময় রবি মিয়ার রেকর্ডকৃত জমির বিষয়টি আলোচনায় ছিল এবং জমির পরিবর্তে জমি দেয়ার কথা তিনি শুনেছেন।
এদিকে আশ্রয়ণ কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় সরকারি ভূমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল এমন অভিযোগও স্থানীয়ভাবে উঠেছে।বর্তমানে বিষয়টি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দাদের যাতায়াত নিশ্চিত এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন রাস্তা থেকে মাটি কেটে সরানোর বিষয়টি শুনেছি তবে এখনও লিখিত কোনো অভিযোগ হাতে পাই নি।অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।







