‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের জীবনমানের উন্নয়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের তিন সপ্তাহের মাথায় নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠানে প্রবেশ করে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চে তার সঙ্গে উপস্থিত আছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
মন্ত্রী পরিষদের সদস্যসহ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়ন কর্মসূচির কমিটির সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত আছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর বিএনপির দলীয় সংগীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ পরিবেশন করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত সবাই হাতে হাত মিলিয়ে গালের সঙ্গে তাল মেলান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. আবু ইউসুফ।
রাজধানীর কড়াইল বস্তি ছাড়াও সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল বা শাহ আলীর ওয়ার্ড-৮, আলিমিয়ার টেক বস্তি ওয়ার্ড-১৪ ও বাগানবাড়ি বস্তি এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।
এর আগে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাধারণত ৫ জন সদস্যের জন্য ১টি কার্ড দেওয়া হবে। তবে বড় বা যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে কার্ড সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে উপকারভোগীরা মাসিক ২,৫০০ টাকা হারে নগদ সহায়তা পাবেন। পরবর্তীতে ভাতার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। সরকার বলছে, নারীর ‘ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত’ করতে এটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, আবাসন ও জীবনযাত্রার মান যাচাই করে একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছে। কোনো রকম হস্তক্ষেপ বা স্বজনপ্রীতি রোধে “প্রক্সি মিনস টেস্ট” (পিএমটি) সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দারিদ্র্যের সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাই শেষে ডাবল ডিপিং (একাধিক ভাতা), সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগীদের বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডগুলো হবে ‘আধুনিক ও নিরাপদ’। এতে স্পর্শবিহীন (কন্টাক্টলেস) চিপ, কিউআর কোড এবং জন এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। জি-টু-পি (গভর্নমেন্ট টু পার্সন) পদ্ধতিতে ভাতার অর্থ সরাসরি উপকারভোগী নারীর ব্যাংক একাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেটে জমা হবে। এতে মাঝপথে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ বা অর্থ লোপাটের ‘সুযোগ থাকবে না’।
প্রথম ধাপে আগামী জুন মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারের হাতে দেওয়া হবে ফ্যামিলি কার্ড। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১০ হাজার পরিবার এই কার্ড পাবে। এপ্রিল মাসে ১০ হাজার, মে মাসে আরও ১০ হাজার এবং জুন মাসে বাকি ১০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।






