সালেহ আহমদ খসরু সিলেট বিএনপির এক ত্যাগী নেতা
সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি নাম সালেহ আহমদ খসরু। আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও আদর্শের রাজনীতির কারণে তিনি সিলেট বিএনপির একজন পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে পরিচিত। দলের দুর্দিনে মাঠে থেকে কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নেতাকর্মীদের পাশে থাকা এবং আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সালেহ আহমদ খসরুকে মাঠে দেখা গেছে। রাজপথের আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে মামলা হামলা বাড়িঘরে হয়রানি এমনকি পুলিশ তাঁর মেয়ের মুখে পিস্তল পর্যন্ত ধরেছে, ঘরে আলমারি ভাংচুর করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়েও তিনি দলের কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়াননি। এমনকি আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে তার রাজনৈতিক জীবনে।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় সারা দেশে যখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল, তখন অনেক নেতাকর্মীর মতো তাকেও নানা ধরনের হয়রানি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। সে সময় তিনি দীর্ঘদিন নিজ বাসায় থাকতে পারেননি। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অবস্থান করতে হয়েছে। তবুও বিএনপির রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আদর্শ থেকে তিনি কখনো সরে যাননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ত্যাগী নেতারাই মূলত একটি রাজনৈতিক দলের ভিত্তি শক্ত করে রাখেন। কারণ দুর্দিনে যারা দলকে আঁকড়ে ধরে রাখেন, তারাই দলের প্রকৃত কর্মী ও নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে ওঠেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা থাকা সত্ত্বেও পদ-পদবীর জন্য কখনোই সক্রিয়ভাবে দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা যায়নি তাকে। বর্তমান সময়ে যখন অনেকেই দলীয় পদ বা ক্ষমতার অবস্থান পেতে ব্যস্ত, তখন সালেহ আহমদ খসরু নিজেকে সেই প্রতিযোগিতা থেকে দূরে রেখেছেন।
এ বিষয়ে তার ঘনিষ্ঠরা জানান, তিনি সবসময় মনে করেন—রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের জন্য কাজ করা। পদ-পদবী নয়, বরং মানুষের আস্থা অর্জনই একজন রাজনীতিকের বড় অর্জন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই সালেহ আহমদ খসরু এক ভিন্নধর্মী নাম। তিনি অভিমানী, কিন্তু সেই অভিমানে আছে দৃঢ়তা ও আপোসহীনতা। নীতির প্রশ্নে তিনি কখনও আপস করেননি, ক্ষমতা কিংবা পদলাভের মোহ তাঁকে ছুঁতে পারেনি। সেজন্য রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে হয়েছেন অকুতোভয় সৈনিকের প্রতীক।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তাঁর আহত হওয়ার ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক বোধ ও অবস্থানকে উজ্জ্বলভাবে প্রকাশ করে। এতে প্রতিফলিত হয়—তিনি রাজনীতি করেছেন আদর্শের তাগিদে, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়।
সালেহ আহমদ খসরু নিজেও এ বিষয়ে বলেন, “আমি সবসময় দল ও মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই। পদ-পদবী আমার কাছে মুখ্য বিষয় নয়। আমি বিশ্বাস করি, যদি সত্যিকার অর্থে দলের জন্য কাজ করে থাকি, তবে দল একদিন অবশ্যই আমাকে মূল্যায়ন করবে।”
তবে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রত্যাশা রয়েছে—দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও জনপ্রিয়তার কারণে ভবিষ্যতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে অনেকেই মনে করেন, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের মতো যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা তার রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্দোলনের পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে তা দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও অনুপ্রাণিত হন এবং দলীয় রাজনীতিতে আদর্শ ও ত্যাগের মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠিত হয়।
সিলেটের রাজনৈতিক মহলে তাই এখন আলোচনায় রয়েছে—দীর্ঘদিনের এই ত্যাগী নেতা ভবিষ্যতে দলের কোন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হন কি না। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে সালেহ আহমদ খসরুর বক্তব্য একটাই—রাজনীতি তার কাছে ক্ষমতার পথ নয়, বরং মানুষের পাশে থাকার একটি আদর্শিক অঙ্গীকার।






