সুনামগঞ্জে ভয়াবহ আগুনে ১২টি দোকান পুড়ে ছাই
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার রাত ১১টার দিকে আলফাত স্কয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ১২টি দোকান, কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও একটি বাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ব্যবসায়ীরা জানান, আলফাত স্কয়ারের পূর্ব পাশে শহীদ মিনারের বিপরীতে থাকা দোকানগুলোর একটি থেকে গতকাল রাত ১১টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী দোকানগুলো ও পেছনে থাকা একটি বাড়িতে। একপর্যায়ে আগুন আলফাত স্কয়ারের দক্ষিণ দিকের দোকানগুলোয় ছড়িয়ে যায়। এখানে কয়েকটি জুতা, কাপড়, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও একটি বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের খবরে প্রথমে শহরের ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পরে জেলার শান্তিগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা থেকে আরও দুটি ইউনিট এসে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। এরপর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ওই এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল হালিম বলেন, দোকানগুলোর কোটি কোটি টাকার মালামাল একেবারে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কোনো কিছুই বের করা যায়নি। প্রথমে একটি দোকানে আগুন দেখে ব্যবসায়ীরা চিৎকার শুরু করেন। পরে একের পর এক দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, আগুন নেভাতে গিয়ে বড় সমস্যা হয়েছে পানির সংকট। আশপাশে কোনো পানি ছিল না। প্রথমে গাড়িতে থাকা পানি দিয়েই আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। পরে শহরের কালীবাড়ি, থানার পুকুর ও দোজা মার্কেটের পাশে থাকা আরেকটি পুকুর থেকে পাইপে পানি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আলী হায়দার বলেন, দোকানগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি লাগানো ছিল, এ কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এসব প্রতিষ্ঠানের সবাইকে আগে মৌখিক ও লিখিতভাবে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেউ সেটা গ্রহণ করেননি।
সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জালাল আহমেদ বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হচ্ছে।







