সিলেটে বইমেলা বন্ধ নয়, বিতর্কিত প্রকাশনী বাদ দেওয়ার দাবী ছিলো
সিলেটে প্রকাশক পরিষদ আয়োজিত বইমেলা বন্ধের জন্য কোনো দাবি জানানো হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন বইমেলার ব্যাপারে অভিযোগ দাতারা।
অভিযোগ দাতাদের দাবি , তারা কখনোই বইমেলার বিরোধিতা করেননি, বরং অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট তিনটি বিতর্কিত প্রকাশনীকে বাদ দিয়ে বইমেলা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এই কথা জানান।
প্রকাশক পরিষদের বইমেলার ব্যাপারে অভিযোগ দাতাদের বিবৃতিতে বলা হয় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যেন বিএনপিপন্থী সাংস্কৃতিক কর্মীদের দাবির কারণে বইমেলা বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টি অনভিপ্রেত, দুঃখজনক এবং সত্যের অপলাপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিবৃতি দাতারা বলেন, ২৪ এপ্রিল থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রকাশক পরিষদ সিলেটের ব্যানারে একটি বইমেলা আয়োজনের কথা ছিল। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ওই মেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকটি প্রকাশনী অংশ নিচ্ছে। বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।
তারা জানান, অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, আমরা বইমেলার বিরুদ্ধে নয়, বরং সাহিত্য-সংস্কৃতির সুস্থ চর্চা অব্যাহত থাকুক, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। তবে বিতর্কিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থাকায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার অনুরোধ জানানো হয়।
অভিযোগ দাতারা আরো বলেন, মেলায় অংশগ্রহণকারী ২২টি প্রকাশনীর মধ্যে তিনটি প্রকাশনী ঘাস, চৈতন্য ও অভ্র এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল। প্রশাসন অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে ওই তিন প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে মেলা আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও আয়োজকরা প্রথমে কাউকে বাদ না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। পরে দুইজনকে বাদ দিয়ে একজনকে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলে সাংস্কৃতিক কর্মীরা নৈতিক অবস্থান থেকে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের দাবি যাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ, সেখানে কাউকে ছাড় দিয়ে বাকিদের বাদ দেওয়া ন্যায়সংগত নয়। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি অভিযোগের সত্যতা বিবেচনায় তিনজনকেই বাদ দিয়ে বইমেলা আয়োজন করা হোক। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আয়োজকরা সেই পথ না বেছে পুরো মেলাই বন্ধ করে দিয়েছেন।
তারা বলেন, বইমেলা কেবল বই বিক্রির আয়োজন নয় এটি জ্ঞান, মনন ও প্রগতিশীল সমাজ নির্মাণের এক অনন্য উৎসব। তাই বইমেলার মতো পবিত্র সাংস্কৃতিক আয়োজনে বিতর্কিত ও স্বৈরাচারপন্থী চেতনার আশ্রয় যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, প্রকাশক পরিষদ চাইলে বিতর্কিত প্রকাশনীগুলো বাদ দিয়ে ভবিষ্যতেও বইমেলা আয়োজন করতে পারে এবং সুস্থ, গ্রহণযোগ্য ও বিতর্কমুক্ত আয়োজন হলে সাংস্কৃতিক কর্মীদের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন থাকবে।
তারা আশা প্রকাশ করেন, সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গন সত্য, ন্যায় ও সুস্থ চর্চার পথে এগিয়ে যাবে এবং বইমেলা হবে জ্ঞানপ্রেমী মানুষের মিলনমেলা, কোনো বিতর্কের কেন্দ্র নয়।
পাশাপাশি আরো উল্লেখ করা হয় , প্রকাশক পরিষদের বইমেলা বন্ধ করা হয়েছে দাবি করে এর প্রতিবাদ জানানো ১৫৩ জন লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে জুলাই হত্যা মামলার আসামী,আওয়ামিলীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিগত দিনে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সাথে সম্পৃক্ত অধিকাংশ লেখক সংস্কৃতিকর্মীর নাম লক্ষ্য করা গেছে। যা আমাদের জন্য উদ্বেগ উৎকন্ঠার বিষয়।এতে প্রতীয়মান হয় তিনটি প্রকাশনীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য ছিলো। কালচারাল ফ্যাসিস্টরা বইমেলার নামে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটানোর অপপ্রয়াস চালাচ্ছে বলে আমরা আশংকা করছি।
বিবৃতি দাতাদের অনেকের সাথে আমরা কথা বলে জেনেছি তারা জানেনই না তাদের নাম বিবৃতিতে যুক্ত করা হয়েছে এবং কিছু লেখককে ভুল তথ্য নিয়ে নাম দেওয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি যা সৃজনশীল সাহিত্যচর্চার জন্য অশনিসংকেত।
বিবৃতি দাতা হলেন সাজন আহমদ সাজু, সাবেক সদস্য, সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটি সিলেট বিভাগ বিএনপি, জুবায়ের আহমদ, সহ সভাপতি সিলেট মহানগর ছাত্রদল, মাজহারুল ইসলাম মেনন, দপ্তর সম্পাদক,জিয়া স্মৃতি পাঠাগার সিলেট, নাহিদ আহমদ, যুগ্ম আহবায়ক, সিলেট মহানগর জাতীয়তাবাদী প্রচার দল,আল আমিন, যুগ্ম আহবায়ক, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল সিলেট, মহানগর,মোস্তাক আহমদ সাকেল, যুগ্ম সম্পাদক, এমসি কলেজ ছাত্রদল, রেজাউল করিম চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক ২১নং ওয়ার্ড ছাত্রদল।







