১৭ বছর আ. লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের ফল মিথ্যা মামলায় দুই ছেলে জেলে
আ. লীগের আমলেও এতো নির্যাতনের শিকার হইনি: যুবদল সভাপতি
এত নির্যাতনের শিকার আওয়ামীলীগের আমলেও হইনি। বিএনপি করেছি বলে কি অন্যায় করেছি প্রশ্ন রেখে যুবদল নেতা আবদুল বারিক বলেন,বিএনপি এখন ক্ষমতায় এখনও যদি জেল জুলুম আমাদের কপালে থাকে আর আমার দুই নিরাপরাধ ছেলে, এক বাতিজাকে নির্যাতন করে, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয় তাহলে আর কী করার আছে বলেই ফেইসবুক লাইভে কান্না করতে থাকেন বিগত ১৭ বছর আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করা আব্দুল বারিক।
তিনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি। বুধবার (১৩ মে) রাতে ছেলে বাতিজা সহ ৭ জনকে পুলিশ আটক করে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে পাঠায় এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুক নিজের আইডি থেকে লাইভে এসে কথা গুলো বলেন আব্দুল বারিক। তার এই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় উপজেলা ও জেলা জুড়ে।
তিনি অভিযোগ করেন, এলাকায় কিছু আওয়ামী লীগ সমর্থক পরিকল্পিতভাবে তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানি করছে। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের কাছে এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন,আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে তিনি ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষের শান্তি ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করার কারণে তিনবার কারাবরণও করেছেন। আর এখন আমার নির্দোষ দুই ছেলে ও বাতিজা সহ ৭ জনকে আমার বাড়ির সামনে আমার ছেলের কসমেটিকস দোকান থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটক করে নির্যাতন করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমার ছেলের কসমেটিকস দোকানেই কেন বার বার পুলিশ আসে আর সর্বশেষ পরিকল্পিত ভাবে অভিযান চালিয়ে আমার নিরাপরাদ দুই ছেলে ও বাতিজাকে মাদকের মামলা দিয়েছে। অথছ মাদক পায়নি,তিনি দাবী করেন তার ছেলেরা সিগেটেই খায় না। তাই পুলিশি নির্যাতন,হামলা,মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে, তাহিরপুর উপজেলা যুবদল এক প্রতিবাদলিপিতে আব্দুল বারিক, তার ভাই, দুই ছেলে ও ভাতিজাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
যুবদল নেতা আব্দুল বারিক বলেন, আমি বাজারে ছিলাম, আমি ও আমার ছেলে বাতিজারা ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার অপরাধ একটাই আমি প্রাথমিক মনোনয়ন বঞ্চিত আনিসুল হকের গ্রুপ করি। আমি ন্যায় বিচার চাই।
তাহিরপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম বলেন, যুবদল নেতার দুই ছেলে মাদক ব্যবসায়ী বা জুয়াড়ি নয়,পুলিশ কোন পক্ষকে খুশি করতে অতি উৎসাহী হয়ে ঘৃণ্য কাজটি করেছে। ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুল বারিক, তার ভাই, দুই ছেলে ও ভাতিজাসহ কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হয়ে পুলিশ সদস্যরা আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। দোকানে কোনো মাদক উদ্ধার করা যায়নি, তবে জুয়া খেলার কিছু উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার(১৩ মে) রাতে তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের উজান তাহিরপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ বুধবার রাতে যুবদল নেতা আব্দুল বারিকের ছেলে আশরাফুল ইসলামের দোকানে তল্লাশি চালায়। তবে কোনো মাদক উদ্ধার করা যায়নি। এ সময় দোকানে থাকা কয়েকজন যুবক পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে একজনকে আটক করলে অন্যরা তাকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে পুলিশ সদস্য মিটু মিয়াসহ কয়েকজন আহত হয়। খবর পেয়ে তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাতজনকে আটক করা হয়।







