তাহিরপুরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা, বিজিবি সোর্স সন্দেহে জটিলতা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সোর্স সন্দেহে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রোববার সকালে বাড়ির অদূরে রাজাই মিশন স্কুলসংলগ্ন এলাকা থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে তাহিরপুর থানা পুলিশ। নিহত যুবক আঙ্গুর মিয়া (৩২) উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চাঁনপুর সীমান্তের রাজাই গ্রামের মৃত আবুল মনসুর আলীর ছেলে। তিনি পেশায় কৃষিকাজ করতেন।
এদিকে ২৮-বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন সুনামগঞ্জের অধিনায়ক লে. কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি বিজিবির সোর্স ছিলেন না। তবে চোরাকারবারিদের সন্দেহ ও পূর্ব বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের স্ত্রী হাজেরা খাতুন জানান, শনিবার রাতে বিজিবির একটি টহল দল ভারতীয় বিড়ির চালান আটক করার পর তাদের বাড়ির উঠানে আসে এবং পরে ক্যাম্পে ফিরে যায়। এরপর এলাকায় কয়েকজন চোরাকারবারি তাদের বাড়ির আশপাশে নজরদারি শুরু করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তাকে এবং পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয় যে, বিজিবিকে তথ্য দেওয়ার কারণে তার স্বামীকে হত্যা করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিজিবি টহল দল ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার পর থেকে আঙ্গুর মিয়ার গতিবিধি লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা। রাতের কোনো এক সময় তিনি নিখোঁজ হন এবং পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্দেহভাজন কয়েকজন চোরাকারবারি এলাকা থেকে আত্মগোপনে চলে যায়।
তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের গলা, হাত ও মুখমণ্ডলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।






