হৃদয়বিদারক। মর্মান্তিক।
এক নিমিষেই শেষ একটি সুখের নীড়…
হৃদয়বিদারক। মর্মান্তিক। এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো একটি সুখের নীড়। লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরে তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোডাউন রোডের নদীরপাড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা বলতে পারেনি কেউ।
নিহতরা হলেন- মা শাহিনুর বেগম (৩৬), ছোট মেয়ে স্কুলছাত্রী শিফা আক্তার (৯), মেজো মেয়ে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ইকরা আক্তার (১৭) ও বড় মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সায়মা আক্তার (২১)। বিকেলে পাঁচজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মামুনুর রশিদ পলাশ। রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হলে সেও মারা যায়।
নিহত শাহীনুরের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। মুরাদ বলেন, সিফাতের মা ও তিন বোনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সকালে সে কাজে আসায় কিছুই জানতো না। ঘটনাটি জানার পর থেকে সে আতঙ্কগ্রস্ত। কারো সঙ্গে কথা বলার অবস্থাতে নেই।
জানা যায়, নিহতরা কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার লটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহত শাহিনুরের স্বামীর নাম কামাল হোসেন। তিনি ভ্রাম্যমাণ প্লাস্টিক পণ্য বিক্রেতা ছিলেন। ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক যুবককে জনতা পিটুনি দেওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে পুলিশের ৬-৭ জন সদস্য আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বেশ কয়েক বছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ভাড়া বাসায় থাকতেন। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যাওয়ার পর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। সেই বাসাতেই বৃহস্পতিবার সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, নিহতদের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত যুবককে পিটুনি দিয়েছে জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত জনতা ইটপাটকেল ছুড়লে আমাদের ৬-৭ সদস্য আহত হন। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি, তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তারা ঘরের ভেতরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি টের পেয়ে এগিয়ে যান। পরে সেখানে পরিবারের চার সদস্যকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
এসময় অভিযুক্ত এক ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা পিটুনি দিলে সে গুরুতর আহত হয়। মারাত্মক জখম অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। নিহত ঘাতকের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)। সে নোয়াখালীর সূবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে এবং রায়পুরে ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বলেন, পিটুনিতে আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, রায়পুরে একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মা ও তিন মেয়েসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। এছাড়া জনতার পিটুনিতে গুরুতর আহত অভিযুক্ত যুবক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে জনতার ঢিলে আমাদের ৬-৭ সদস্যও আহত হন।






