মাদক-আধিপত্যের জেরে জোড়া খুন
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাদক বেচাকেনা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধে সশস্ত্র হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর ব্রিক ফিল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আরও অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন, ওসমানপুর ইউনিয়নের হিজলাবট ব্রিক ফিল্ড এলাকার মৃত চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০) এবং একই ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (২৫)। আহতদের মধ্যে মুল্লুক মণ্ডল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে গ্রামপুলিশ মিন্টু চৌকিদার ও নূর আমিন নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় বরাতে জানা যায়, এলাকায় মাদক বেচাকেনা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ছালিম হোসেন ও মিন্টু চৌকিদার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১৩ জুলাই ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসান শেখ নামে একজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর রাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৮০ থেকে ১০০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছালিম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় ছালিম হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাড়িতে থাকা ফারুক হোসেন, আব্দুল শেখ ও মুল্লুক মণ্ডল হামলাকারীদের কবলে পড়েন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের গুরুতর আহত করে। ঘটনাস্থলেই ফারুক ও আব্দুল শেখের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা আহত মুল্লুক মণ্ডলকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহত ফারুকের স্ত্রী রাহেলা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ তার স্বামীকে মাদক বেচাকেনায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। রাজি না হওয়ায় এক মাস আগে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এরপর থেকে প্রাণভয়ে ফারুক দেবীনগরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে নিহত আব্দুল শেখের মা ময়না খাতুন বলেন, প্রতিপক্ষের ভয়ে তার ছেলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার স্বামীকে কুপিয়ে আহত করার পর গভীর রাতে ছেলেকেও হত্যা করা হয়।
তবে পুলিশ বলছে, স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, স্থানীয় মিন্টু চৌকিদার ও ছালিম হোসেন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।







