ট্রিপল মার্ডারের প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি
সিলেটের রায়নগরের চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত দম্পতির কন্যারা তাদের মা-বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে সিলেট মহানগরীর শাহী ঈদগাহ প্রাঙ্গণে বৃহত্তর শাহী ঈদগাহবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক হেলাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহাগ আহমদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত দম্পতির কন্যা তাহমিনা সাত্তার এনি ও সেলিনা সুলতানা শিখা।
মানববন্ধনে নিহত পরিবারের সদস্যরা বলেন, গত ১২ আগস্ট সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালী এলাকায় অত্যন্ত নৃশংসভাবে তিনজন মানুষকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা শুধু সিলেটবাসীকেই নয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণের কথা বলা হয়েছে। ঘটনার দিন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেমের সম্পর্ককে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে খারাপ ব্যবহারের কারণে হত্যাকাণ্ডের কথা বলা হয়। সর্বশেষ চুরির টাকা কিংবা বাসাভাড়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে যে বক্তব্য সামনে এসেছে, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
নিহতদের কন্যারা বলেন, একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য আসায় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সিলেটবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সমাজসেবক হেলাল চৌধুরী বলেন, তিনজন মানুষের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে হতাশ করেছে। তিনি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি জানান। এছাড়াও তিনি অপরাধীদের ধরতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনকে ৩ দিনের আল্টিমেটাম দেন।
হেলাল চৌধুরী আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জায়গা-সম্পত্তি কিংবা অন্য কোনো বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রংপুরের একটি ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন করা হলেও সিলেটের মতো একটি ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই। এতে নিহত পরিবারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তারা আরও বলেন, আমরা কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি কিংবা সাজা দেওয়ার পক্ষে নই। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যারা প্রকৃতপক্ষে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি মিল্লাত আহমেদ, সুয়েব আহমদ, রুবেল আহমেদ, ফাহিদ আহমদ, তানভীর আহমদসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।







