সুনামগঞ্জে তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বিষপান, তিন শিশু নিহত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন শিশু সন্তানকে বিষ পান করিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে সরফত আলী (৩৮) নামে এক পিতার বিরুদ্ধে। একেই সাথে পিতা নিজেও বিষ পান করে মৃত্যুশয্যায় রয়েছে। এমনি মর্মান্তিক ঘটনার এলাকার ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনী লাইন গ্রামে ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে মুমূর্ষু অবস্থায় পিতাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত শিশুরা হলো,মাওয়া আক্তার (১০), তামিম মিয়া (০৭), শামীম মিয়া (০২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সরফত আলী (৩৮) আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম সৌদি আরব চলে যায় মাওয়া আক্তার (১০), তামিম মিয়া (০৭), শামীম মিয়া (০২) কে রেখে। শুক্রবার দুপুরে স্ত্রীর সাথে কোনো একটি বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিকেলে বাজারে গিয়ে মোরগ ও পোলাও চাল নিয়ে আসে খাবার জন্য। রাতে রান্না করে খাওয়ার পর ঘুমিয়ে যায়। পরে রাত দেড়টার দিকে সরফত আলী সে নিজেও বিষ খায় খেয়ে তার তিন ছেলে মেয়েকে বলে যে ঔষধ খাওয়ায় জন্য। পরে ছোট ছেলে ও মেয়েকে খাওয়ানোর পর বড় মেয়েকে খাওয়ানোর পর চিৎকার দিলে বাড়ি পাশের আত্মীয় স্বজনরা এগিয়ে আসে। পরে বড় মেয়ের কাছ থেকে এই তথ্য জানতে পারে সবাই। পরে পরিবারের লোকজন প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনদের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গেলে সেখানে থাকা চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিন শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন। পিতার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত জানান, ভোরে খবর পেয়ে বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে গিয়ে তিন শিশুর লাশ দেখতে পাই। গুরুতর আহত পিতাকে স্বজনরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ফারুক আহমেদ জানান, বিষপানের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি তবে এই বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।







