সৌদিতে দুই গাড়ির সংঘর্ষে একই পরিবারের ৭ জনসহ নিহত ৯
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল-আহসা গভর্নরেটে দুটি গাড়ির সংঘর্ষে একই পরিবারের সাত সদস্যসহ মোট নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহত সাতজন একই গাড়িতে ছিলেন। তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে ছিলেন।
সৌদি সংবাদমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় অন্য গাড়িতে থাকা দুই তরুণও প্রাণ হারান।
শনিবার সন্ধ্যায় আল-আহসা গভর্নরেটের আল-উকাইর-আল-উয়ুন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পূর্বাঞ্চলীয় ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, একটি গাড়ি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করায় দুটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সিভিল ডিফেন্স, ট্রাফিক বিভাগ ও সৌদি রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করেন তারা। তবে শেষ পর্যন্ত দুই গাড়িতে থাকা নয়জনই নিহত হন।
আল-উকাইর-আল-উয়ুন সড়কটি পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। সড়কটি আল-আহসা গভর্নরেটের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে উপকূলীয় এলাকার যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের বার্ষিক ট্রাফিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার ৬০ শতাংশের বেশি কমার তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখাকে ২৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং হঠাৎ দিক পরিবর্তনকে ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চলাচলের অধিকার লঙ্ঘন, গাড়ি চালানোর সময় মনোযোগের ঘাটতি এবং বিপরীতমুখী গাড়ি চালানোও দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, ট্রাফিক নজরদারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও প্রাণহানি কমাতে ভূমিকা রেখেছে।
তবে আল-আহসায় সর্বশেষ এই দুর্ঘটনা দেশটির সড়কে বিদ্যমান ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে একটি গাড়ির হঠাৎ দিক পরিবর্তনের কথা জানানো হলেও, কেন গাড়িটি এভাবে দিক পরিবর্তন করেছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। নিহতদের পরিচয়ও কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।







