ভূয়া কার্ড বিতরণের মাধ্যমে সরকার জনগণকে শোষণ করছে: ডাকসু ভিপি
ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, সরকার এখনো পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার করেনি, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিচার করছে না, সেই বিচারের ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘতা আমরা দেখতে পারছি। বিদ্যুৎ নাই, গ্যাস নাই, পানি নাই এবং সাত মাসে তিন দফায় রাতের আঁধারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশে তেলের দাম কমেছে। এই তেলের দাম বৃদ্ধির পিছনে বিএনপি সরকারের সিন্ডিকেট রয়েছে। এই তেলের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও অন্যান্য ভূয়া কার্ড বিতরণের মাধ্যমে তারা জনগণকে শোষণ করছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর শহরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ছাত্র গণজমায়েত অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্শনের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি সরকার দেশের ২৭ লক্ষ বেকারদের পেটে লাথি মারছে। বিএনপির প্ল্যান হলো চাকরির ক্ষেত্রে মেধাকে ধ্বংস করা। আজকে তাদের সামগ্রিক ব্যর্থতা ও অরাজকতার মাধ্যমে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আজ সারাদেশের মানুষ বিএনপি সরকার থেকে মুক্তি চায়।
ডাকসু ভিপি বলেন, নির্বাচনে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যা এর পক্ষে রায় দিয়েছিল। আজকের যিনি প্রধানমন্ত্রী তিনিও আবু সাঈদের রংপুরে গিয়ে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন। রাস্ট্র সংস্কারের কথা বলেছিলেন। সেই ইঞ্জিনিয়ারিং নির্বাচন হওয়ার পরে আমাদের নেতা ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য নির্বাচন মেনে নিয়েছিলেন। সেই নির্বাচন হওয়ার পর আমরা আশা করেছিলাম এই বিএনপি সরকার রাস্ট্র সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিবে। তারা গণভোটের জনরায়কে বাস্তবায়ন করবে। জুলাই সনদকে বাস্তবায়ন করবে। সারাদেশে চাঁদাবাজি, রাহাজানি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ করবে। কিন্তু আমরা দেখতে পেয়েছি গত সাত মাসে বিএনপি সরকার এই জাতির সাথে ও জুলাই শহীদদের রক্তের সাথে প্রতারণা করেছে।
ডাকসু ভিপি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রত্যেকটা জায়গায় নির্লজ্জ দলীয়করণ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় নেতাদের ভিসিতে বসাইছে। যাদের বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর নূন্যতম কোনো যোগ্যতা নাই। আমরা ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমরা সফলতার সাথে এক বছর ডাকসুর দায়িত্ব পালন করেছি আমরা ক্ষমতার চেয়ারে আর বসে থাকতে চাইনা। বাংলাদেশে একটা নজির স্থাপন করেছি। কিন্তু আমরা আশংকা করছি এই বিএনপি সরকার ৯০ পরবর্তী বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে যেভাবে ছাত্র সংসদ বন্ধ করে দিয়েছে ঠিক একই কায়দায় তারা আবার ডাকসুসহ বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচনকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বড়লেখা উপজেলা শাখার সভাপতি নোমান আহমদের সভাপতিত্বে ও উপজেলা উত্তর শাখার সভাপতি হানযালা আহমদ-এর সঞ্চালনায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।







