জান্নাতিরা দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট ভুলে যাবে
মহানবী (সা.) বলেন, ‘দুনিয়ায় যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি কষ্ট ও পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছে, তাকে জান্নাতে একবার ডুবিয়ে দেওয়া হবে এবং জিজ্ঞাসা করা হবে, ‘হে আদম সন্তান, তুমি কি কখনো কোনো কষ্ট দেখেছিলে? তুমি কি কখনো দুঃখ অনুভব করেছিলে?’ সে বলবে, ‘না, হে আমার রব! আমি কখনো কোনো কষ্ট দেখিনি, কখনো কোনো দুঃখ অনুভব করিনি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর–২৮০৭)
শিক্ষা ও বিধান
১. দুনিয়ার কষ্ট চিরস্থায়ী নয়। মানুষ দুনিয়ায় যতই কষ্ট, দুঃখ, রোগ, দারিদ্র্য বা বিপদের সম্মুখীন হোক—এসব একদিন শেষ হয়ে যাবে। জান্নাতের সামান্য নেয়ামতও দুনিয়ার দীর্ঘ কষ্টকে এমনভাবে ভুলিয়ে দেবে যে, মানুষ মনে করবে সে যেন কখনো কষ্টই পায়নি।
২. জান্নাতের সুখের সঙ্গে দুনিয়ার কোনো তুলনা নেই। একবার জান্নাতের নেয়ামত উপভোগ করার পর দুনিয়ার সব কষ্ট তুচ্ছ ও বিস্মৃত হয়ে যাবে। তাই মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত সাময়িক কষ্টের দিকে না তাকিয়ে চিরস্থায়ী জান্নাতের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
৩. বিপদ এলেই মনে করা উচিত নয় যে আল্লাহ আমাকে ছেড়ে দিয়েছেন; বরং এটি হতে পারে ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসার পরীক্ষা।
৪. দুঃখের সময় হতাশ হওয়া উচিত নয়। আজ যে মানুষটি কান্না করছে, কাল হয়তো সেই কান্নার বিনিময়ে এমন আনন্দ পাবে, যার সামনে আজকের সব দুঃখ তুচ্ছ হয়ে যাবে। তাই বিপদের সময় আত্মহতাশা নয়; বরং দোয়া, সালাত, সবর ও তাওয়াক্কুল অবলম্বন করতে হবে।
৫. দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, আখিরাত চিরস্থায়ী। দুনিয়ার কয়েক দশকের জীবন যত দীর্ঘই মনে হোক, আখিরাতের অনন্ত জীবনের তুলনায় তা অত্যন্ত সামান্য। তাই সাময়িক কষ্ট সহ্য করে চিরস্থায়ী সফলতা অর্জন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।







