১১ মাসে শাবিপ্রবির ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
গত ১১ মাসে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ তিনদিনে ৩ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন পানিতে ডুবে, সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন, দুজন অসুস্থ হয়ে এবং একজন বিষপানে মারা গেছেন।
২০২৫ সালের নভেম্বরের ১২ তারিখে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তকরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আল আমিন মৃুত্যবরণ করেন। জানা যায়, মৃত্যুর আগে আলামিন পড়াশোনা নিয়ে অতিরিক্ত হতাশায় ভুগছিলেন।
পনিতে ডুবে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু
চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি সিলেটের লালাখালে ঘুরতে গিয়ে গোসল করতে নেমে মারা যান তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুসআব আমীন। তিনি সাঁতার জানতেন না।
গত ১৫ মে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র বিছানাকান্দিতে ঘুরতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত বণিক (২২)। ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিন বন্ধু মিলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নোম্যান্সল্যান্ডসংলগ্ন জলাশয়ে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে পানির তীব্র স্রোত ও গভীরতায় তলিয়ে যান শান্ত। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
এছাড়া গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরের চৌকিদিখি এলাকার ব্রিটানিয়া সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে মারা যান কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দীপাঞ্জন ঘোষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে সুইমিংপুলে সাঁতার কাটার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে সহপাঠীরা তাঁকে উদ্ধার করে নগরের দরগাহ গেট এলাকার নূরজাহান হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনদিনে তিন জনের মৃত্যু
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জিসান হাসান। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান।
এছাড়া প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে ৪ অক্টোবর কীটনাশক পান কওে রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার বাঁধন (২১)। আজ নয় দিন পর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদমান রহমান। শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন তপোবন আবাসিক এলাকার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রতন।
এসব ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন,“প্রতিটি ঘটনায় আমরা শিক্ষার্থীদের বাঁচানোর জন্য দ্রুত সাড়া দিয়েছি। কিন্তু মৃত্যু অনিশ্চিত। একের পর এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। অদম্য মেধাবীদের হারানো শাবিপ্রবির অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”







