সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছে ৫৫ বিজিবি। দিবা-রাত্রি টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ মোবাইল টিমের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ৫৫ বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার আওতায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও মাধবপুর এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় এ নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ৬৩টি পূজামণ্ডপ এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত আরও একটি পূজামণ্ডপকে বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে। পূজামণ্ডপে পূজারি ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বৃহস্পতিবার ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান, বিজিওএম চুনারুঘাট উপজেলার আমু চা-বাগান পূজামণ্ডপ এবং মাধবপুর উপজেলার ঘিলাতলী জগন্নাথ দেবের আখড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে বিজিবি অধিনায়ক বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার – এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক। সীমান্তবর্তী এলাকাসহ সর্বত্র পূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি আরও জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার বন্ধের পাশাপাশি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় দিন-রাত টহল, নিবিড় নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ মোবাইল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এদিকে, পূজা উদযাপন কমিটি ও সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ এবং গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ৫৫ বিজিবি। এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প অথবা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি ধর্মীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।







