দিরাই হাসপাতালে মারামারি-ভাঙচুরের মামলায় একপক্ষকে আসামি করে হয়রানির অভিযোগ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রোগীকে মারধর, কর্তব্যরত আনসার সদস্যকে লাঞ্ছিত এবং সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা এ মামলায় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটলেও শুধু জাহাঙ্গীর হোসেন সর্দারের পক্ষের লোকজনকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মামলায় নাম থাকা চারজন—জাকারিয়া সর্দার, মাহিম সর্দার, সুয়েল সর্দার ও মোস্তাকিম সর্দার ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ-সংক্রান্ত ভিডিও বক্তব্য তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের তৎপরতায় এবং সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর নাম ব্যবহার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে ঘটনার ১১ দিন পর একপক্ষীয়ভাবে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে বিএনপির নতুন করে সম্পৃক্ত হওয়া কয়েকজন এবং আওয়ামী লীগের এক নেতার সাবেক বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাঁদের দাবি, বর্তমানে সংসদ সদস্যের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ওই মহল মামলার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য ও ভিডিও পর্যালোচনা করেই আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটার পরও অপর পক্ষের কাউকে আসামি করা হয়নি কেন—এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে সাকিতপুর গ্রামে সৈয়দুর রহমান চৌধুরীর বাঁশঝাড় থেকে জিবু চৌধুরী জোরপূর্বক বাঁশ কাটার চেষ্টা করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাহাঙ্গীর হোসেন সর্দার বাধা দিলে জিবু চৌধুরী তাঁকে উদ্দেশ করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন এবং হাতে থাকা দা দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে জাহাঙ্গীর সর্দার সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।
পরে জাহাঙ্গীর সর্দারকে না পেয়ে তাঁর ভাতিজা, দিরাই আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রাফিকে একা পেয়ে দা দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রাফি গুরুতর আহত হলে স্থানীয় প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্বজনদের ছোটাছুটির মধ্যে জিবু চৌধুরী তাঁর লোকজন নিয়ে হাসপাতালে আসেন। সেখানে জিবু ও হারুনের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় হাসপাতালের কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে। তবে মামলায় উল্লেখ করা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনার ১১ দিন পর, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায় বাদী হয়ে দিরাই থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে সাকিতপুর গ্রামের জাকারিয়া (৪১), মাহিম (২৮), হারুন (৩২), মোজাহিদ (৩২), আশরাফুল (৩০), সোহেল (৩৭), মোজাম্মিল (২২) ও মোস্তাকিম (২০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৩টা ৫৫ মিনিটে সাকিতপুর গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত কয়েকজন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম (৪০), জিবু মিয়া (২৭) ও রাফি সর্দার (১৬) ছিলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আহত জিবু মিয়ার চিকিৎসা চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় কর্তব্যরত আনসার সদস্য সৌরভ দাস বাধা দিলে তাঁকে ধাক্কা ও কিল-ঘুষি মেরে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। পরে জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে চিকিৎসাধীন জাহাঙ্গীর ও রাফিকে মারধর করা হয়।
এ ছাড়া জরুরি বিভাগে চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চিকিৎসাসেবায় বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম টানাহেঁচড়া করে মেঝেতে ফেলে ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে একটি ইসিজি মেশিন, একটি সাকশন মেশিন, একটি ওজন মাপার যন্ত্র, দুটি রোগীর শয্যা ও একটি পানির কল ভাঙচুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের আনুমানিক ১ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলার আসামি ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটলেও মামলায় এক পক্ষের লোকজনকেই আসামি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে দায়ী করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, মামলায় অভিযুক্ত আটজনের মধ্যে অন্তত চারজন ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁরা হলেন—
১. জাকারিয়া সর্দার
২. মাহিম সর্দার
৩. সুয়েল সর্দার
৪. মোস্তাকিম সর্দার।
তাঁদের প্রশ্ন, ঘটনার সময় যাঁরা হাসপাতালে উপস্থিতই ছিলেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কীসের ভিত্তিতে সরকারি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হলো?
মামলার ১ নম্বর আসামি জাকারিয়া সর্দার বলেন, “ঘটনার দিন ও সময়ে আমি হাসপাতালে উপস্থিত ছিলাম না। আমি হাওরে কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলাম। আমাকে অযথা হয়রানি করার জন্য পক্ষপাতদুষ্টভাবে আসামি করা হয়েছে।”
আরেক আসামি মাহিম সর্দার বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না। ঘটনার দিন হাসপাতালের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মামলায় আমাদের পক্ষের লোকজনকেই একতরফাভাবে আসামি করা হয়েছে।”
আসামি সুয়েল সর্দারের দাবি, মামলাটি প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে নয়; বরং একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিল ও তাঁদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি মামলাটিকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান।
অন্য আসামি মোস্তাকিম মিয়া বলেন, “হাসপাতালের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের একপক্ষীয় মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, ব্যক্তিগতভাবে ধারণ করা ভিডিও নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আরও গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল এ মামলার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের দাবি, মুক্তার চৌধুরীর এক আত্মীয়, যিনি অতীতে আওয়ামী লীগের এক নেতার বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন বলে তাঁরা অভিযোগ করছেন এবং বর্তমানে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরীর এপিএস হিসেবে কর্মরত, তিনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের নাম ব্যবহার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে ঘটনার ১১ দিন পর দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায়কে মামলা দায়েরের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটলেও পুরো দায় এক পক্ষের ওপর চাপিয়ে মামলাটি করা হয়েছে।
তাঁদের আরও অভিযোগ, ঘটনার সময় হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরা অকার্যকর ছিল। ফলে সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। এ অবস্থায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ না করেই প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে অন্য পক্ষের লোকজনকে অন্যায়ভাবে আসামি করা হয়েছে।
তবে সংসদ সদস্যের এপিএসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ, তাঁর কথিত রাজনৈতিক ও পেশাগত সংশ্লিষ্টতা এবং মামলা দায়েরে প্রভাব বিস্তারের বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
মামলার সাক্ষী হিসেবে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ওয়াসিম আকরাম, ডিএমএফ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী সোহাগ, ওয়ার্ডবয় মো. দেলোয়ার হোসেন, ক্লিনার বিধান দেবনাথ ও আনসার সদস্য সৌরভ দাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মামলার সাক্ষী হাসপাতালের ক্লিনার বিধান দেবনাথ বলেন, “ঘটনার শুরু থেকেই আমি উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে একজনকে মারধর শুরু করেন। তখন দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভেঙে যায়। আমি কারও নাম জানি না, তবে সামনে দেখলে চিনতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, “মামলায় উল্লেখিত ১ নম্বর সাক্ষী ডা. ওয়াসিম আকরাম ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে ছিলেন না। পরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তিনি সেখানে আসেন।”
অন্যদিকে এজাহারে বলা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের পরিচয় সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত থাকায় অভিযোগ দায়েরে বিলম্ব হয়েছে।
এখানেই দেখা দিয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—সিসিটিভি ক্যামেরা কার্যকর ছিল কি না, মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে কারা রয়েছেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা আসামিদের শনাক্ত করেছেন কি না এবং যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের ঘটনার সময়কার অবস্থান যাচাই করা হয়েছে কি না?
মামলার বাদী দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায় বলেন, “মামলার আসামিদের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন। ঘটনার সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, তা আমি নিজে জানি না। উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য ও ভিডিও দেখে আসামি দেওয়া হয়েছে। এমপি, মন্ত্রী ও আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথায় আমি মামলা দায়ের করেছি। আসামি কারা, তাঁদের আমি চিনি না।”
বাদীর এ বক্তব্যের পর মামলায় আসামিদের নাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যিনি মামলার বাদী, তিনি নিজেই যদি আসামিদের ব্যক্তিগতভাবে না চেনেন এবং ঘটনার সময় তাঁদের উপস্থিতি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা না রাখেন, তাহলে কার বক্তব্য ও কী ধরনের তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শ্রীজীব বলেন, “মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে যদি কোনো ব্যক্তির ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাঁকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে। আর তদন্তে নতুন কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। কেউ অপরাধী হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কেউ অপরাধী না হলে তদন্তের ভিত্তিতে তাঁকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে।”
অন্যদিকে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন বলেন, দিরাইয়ের ঘটনার কথা শোনার পর তিনি প্রথমে জিডি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে মামলার কথাও বলেছেন। তবে কাদের আসামি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি জানেন না। কাউকে অযথা আসামি করা হয়েছে কি না, সেটিও তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে দিরাই হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলতে পারবেন। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীকে মারধর, চিকিৎসাসেবায় বাধা কিংবা সরকারি সম্পদ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই তার আইনানুগ বিচার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে থাকলে শুধু একটি পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো কেন, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
বিশেষ করে চারজন আসামি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা, মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও, জিডির কপি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং হাসপাতালের ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের প্রকৃত হিসাব পর্যালোচনা করলেই অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মামলার বাদী নিজেই যখন বলেছেন, তিনি আসামিদের চেনেন না এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথায় মামলা করেছেন, তখন আসামিদের নাম নির্ধারণে কারা ভূমিকা রেখেছেন এবং কী প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, হাসপাতালের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত একটি ঘটনার প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা কি তদন্তের দায়িত্ব, নাকি প্রভাবশালী কারও নির্দেশে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি করাই যথেষ্ট? সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি সরকারি কর্মকর্তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকেন, সেটিও কি তদন্তের আওতায় আসবে না?
হাসপাতালে হামলা ও সরকারি সম্পদ ভাঙচুরের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের পরিচয় ও অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা প্রতিহিংসার কারণে হয়রানি করা হচ্ছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।







