গ্যাংস্টারদের অত্যাচারের শিকার নির্দোষ তাহেরা
আইনশৃঙ্খলার শিথিলতায় বেপরোয়া অপরাধচক্র
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মাফিয়া গ্যাংগুলোর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশীয় অপরাধী চক্রগুলো ধীরে ধীরে ভয়ংকর ও সংগঠিত আকার ধারণ করছে। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সহজলভ্য অবৈধ অর্থের কারণে এসব গ্যাং আজ গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই তাদের প্রভাব বিস্তার করেছে।
এরই মধ্যে এক মর্মান্তিক ঘটনায় আলোচনায় এসেছে তাহেরা বেগম নামের এক নির্দোষ মেয়েকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ইং তারিখে এলাকার প্রভাবশালী এক গ্যাং তাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তাহেরা কোনো ধরনের অপরাধ বা বিবাদের সাথে যুক্ত ছিল না। তবুও তাকে দু’দিন ধরে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালানো হয়।
ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও, পুলিশ তা আমলে নেয়নি। বরং নানা অজুহাতে অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি করা হয়, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় প্রভাবশালী মঞ্জুর আলমের ছত্রছায়ায় এই গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে থাকায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। অনেক সময় দেখা যায়, গ্যাং সদস্যরা প্রকাশ্যে অপরাধ করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
বর্তমানে এ অঞ্চলে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী হামলা, মাদক ব্যবসা, মানবপাচার এবং অস্ত্র চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সচেতন মহল বলছে, এমন পরিস্থিতিতে যদি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয়ে শক্ত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও চরম হুমকির মুখে পড়বে।
তাহেরা বেগমের ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত দাবি নয়, বরং এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের আইনের প্রতি আস্থার বড় পরীক্ষা।






