আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের হাত রেহাই পেলোনা সিলেটে আব্দুল মান্নানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
জীবনের নিরাপত্তা ঝুকি থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁর তিন ছেলে বিদেশে থাকার পরও সিলেট সদর উপজেলার বলাউড়া বাজারের পার্শ্বে আব্দুল মান্নানের রাইস মিলে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করেছে স্থানীয় আওয়ামী ক্যাডার বাহিনীরা। ২০২৪ সালে জুলাই-আগষ্টে আন্দোলনের সময় অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিদেশে অবস্থানরত অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হামলা ও দখলের শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ০২ আগষ্ট ২০২৪ইং তারিখে বলাউড়া বাজারের পার্শ্বে আব্দুল মান্নানের রাইস মিলে এঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গনঅভ্যুথ্যানের সময় বাংলাদেশে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনীর নির্বিচারে গুলি করে হাজার হাজার মানুষকে হত্যার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবকু ও অনলাইনের বিভিন্ন মিডিয়ায় স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন তার প্রবাসে বসবাসরত সন্তানরা। এর জের ধরে প্রতিহিংসা থেকে আওয়ামী ক্যাডাররা তাদের বাবার (আব্দুল মান্নান) রাইস মিলে লুটপাট, ভাংচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মান্নান ও তার সন্তানরা জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তাঁর ২য় ছেলে এবং ছোট ছেলে জামায়াত শিবিরের ইউনিয়ন কমিটির বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয় এলাকায় জামায়াত শিবিরের মিছিল, মিটিং এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতো। তাঁর ২য় ছেলে সিলেট সদর উপজেলার ৮নং কান্দিগাও ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জামায়াতের বায়তুল মাল (অর্থ সম্পাদক) ছিলেন ও ছোট ছেলে শিবিরের ৫নং ওয়ার্ডের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন এবং বড় ছেলে মিজানুর রহমান ছিলেন বলাউড়া বাজারের আরেক ব্যাবসায়ী এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার নাগরিক। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তাঁর পরিবার সবসময়ই ছিলেন সোচ্চার এবং প্রতিবাদি। একারনে তাদের পরিবার আওয়ামী ক্যাডারদের হামলা, অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে এবং বিভিন্ন মিথ্যা মামলার স্বীকার হয়ে তিন ছেলেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। বাংলাদেশে ঐতিহাসিক গনঅভ্যুথ্যানের সময় অনলাইনে ছেলেদের রাজনৈতিক এক্টিভিটির জের ধরে আব্দুল মান্নানের রাইস মিলে লুটপাট, ভাংচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ছেলেরা অনলাইন এক্টিভিটি বন্ধ না করলে তাদের বাবা (আব্দুল মান্নান) কে প্রানে মারারও হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা আব্দুল মান্নানকে বলেন, তোমার সন্তানরা যদি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লেখালেখি ও ষড়যন্ত্র বন্ধ না করে তাহলে তোমার সন্তানরা যেদিন দেশে আসবে তাদেরকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবো।
এই ঘটনার বিষয়ে জালালাবাদ থানা ওসির সাথে একাধিকবার ফোন দিলে তাকে পাওয়া যায়নি।








