বেনজীরকে দেশে ফেরাতে দুদকের নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন মামলার তথ্য-প্রমাণ সংবলিত প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে ইন্টারপোলের প্রতিনিধিদের কাছেও সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি হস্তান্তর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ এখন আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করেছে দুদক। গতকাল মঙ্গলবার দুদক একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে অনুরোধপত্রটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, অনুরোধপত্রে বেনজীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন মামলার তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। পরে কূটনৈতিক মাধ্যমে তা সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
দুদক জানায়, বেনজীরকে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মঙ্গলবার ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকার দুই প্রতিনিধি দুদকের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেন। তারা চলমান মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, আদালতের আদেশ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের বিষয়ে দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা করেন।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার তথ্য-প্রমাণসহ আদালতের আদেশ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র এনসিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই নথিপত্রগুলো স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে আমিরাতে পাঠানো হবে। আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা কাঠামোর অধীনে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুবাইয়ে সরকারি ছুটি শেষে অফিস-আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। বেনজীর আহমেদকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি জামিন আবেদন করতে পারেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তাই তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি দেশটির আইন, আদালত, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং যথাযথ নথিপত্রের ওপরই মূলত নির্ভর করছে। বেনজীরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক, নাকি তিনি সত্যিই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেনÑ সেটিও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত বিবেচনা করবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতে বেশ কিছু নথি জমা দিতে হবে বাংলাদেশকে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি, মামলা-সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র, অপরাধ-সংশ্লিষ্ট সব নথি এবং বাংলাদেশের আদালতের সব আদেশের কপি জমা দিতে হবে। নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত দেখবে, সব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কিনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনি কাঠামো অনুযায়ী আবেদনটি নিয়মমাফিক এসেছে কিনা।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতের ওপরই নির্ভর করবে। তবে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জানা গেছে, বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, আরেকটির বিচার চলছে। এ ছাড়া পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ আরও পাঁচটি মামলার তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায়ও তদন্ত চলমান রয়েছে।






