বৃষ্টিতে ভিজেও থামেনি ভক্তদের পদচারণা, সিলেটে পালিত ভক্তিচারু স্বামী মহারাজের ৮১তম ব্যাসপূজা
ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সিলেটে পালিত হয়েছে শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী মহারাজের ৮১তম শুভ ব্যাসপূজা মহোৎসব। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইসকন সিলেট মন্দির প্রাঙ্গণে কীর্তনমেলা, মহা-অভিষেক, মহিমা কীর্তন ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।
সকাল থেকেই ইসকন সিলেট মন্দিরে ভক্তদের সমাগম শুরু হয়। মহা-অভিষেকের সময় বৃষ্টি শুরু হলেও এতে ভক্তদের উপস্থিতিতে ভাটা পড়েনি। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভক্তরা মন্দিরে এসে মহা-অভিষেকে অংশ নেন। এ সময় পুরো মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
পরে অনুষ্ঠিত হয় কীর্তনমেলা ও শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী মহারাজের মহিমা কীর্তন। এতে উপস্থিত ভক্তরা বক্তব্যের মাধ্যমে গুরুমহারাজের আধ্যাত্মিক জীবন, শ্রীল প্রভুপাদের প্রতি তাঁর সেবা-নিষ্ঠা এবং বিশ্বব্যাপী কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইসকন সিলেট ইয়ুথ ফোরামের কো-অর্ডিনেটর দেবামৃত নিতাই দাস ব্রহ্মচারী। তাঁর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী মহারাজ ছিলেন শ্রীল প্রভুপাদের একজন নিবেদিতপ্রাণ শিষ্য। বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে বৈষ্ণব ভাবধারার সাহিত্য পৌঁছে দিতে তাঁর অনুবাদ কার্যক্রম এবং শ্রীল প্রভুপাদের জীবন ও শিক্ষা মানুষের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়।
১৯৪৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন ভক্তিচারু স্বামী মহারাজ। উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে অবস্থানকালে বৈদিক শাস্ত্রের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। পরবর্তীতে শ্রীল প্রভুপাদের সান্নিধ্যে এসে তাঁর জীবন আধ্যাত্মিক সেবায় নিবেদিত হয়। ইসকনের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ, ‘অভয়চরণ’ ধারাবাহিক নির্মাণ, শিক্ষা, সমাজসেবা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
ইসকন সিলেটের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সমাজসেবা বিভাগের সদস্য বুদ্ধি গৌর দাস অধিকারী, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের সম্পাদক শ্রীধর সুধাম দাস অধিকারী, মন্দিরের প্রধান পূজারি কালচক্র নৃসিংহ দাস ব্রহ্মচারী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কমিশনার রসিক অদ্বৈত দাস অধিকারী এবং গৃহস্থ কাউন্সিল বিভাগের সভাপতি সুমঙ্গল গৌর দাস অধিকারীসহ বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ইসকন সিলেটের গৃহস্থ, ব্রহ্মচারী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা মহোৎসবে অংশ নেন।
ব্যাসপূজা উপলক্ষে ভক্তরা দুপুর পর্যন্ত উপবাস পালন করেন। পরে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে উপস্থিত সকলের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। মহাপ্রসাদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ব্যাসপূজা মহোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী মহারাজ ২০২০ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দেহত্যাগ করেন। জন্মদিনে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সিলেটের ভক্তরা নানা আয়োজনে দিনটি পালন করেন।







