বইমেলা বন্ধের দাবি নয়, নির্দিষ্ট প্রকাশনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ: সাজন আহমদ সাজু
সিলেটে প্রকাশক পরিষদ আয়োজিত বইমেলা বন্ধের জন্য কোনো দাবি জানানো হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন কমল সাহিত্য পরিষদের সভাপতি সাজন আহমদ সাজু। তিনি বলেন, “আমরা বইমেলার বিরোধী নই; বরং নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রকাশনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে তাদের বাদ দিয়ে মেলা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছি।”
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।
সাজু বলেন, বইমেলা একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। “আমরা কখনোই বইমেলার বিপক্ষে অবস্থান নেইনি। তবে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছি,”—যোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে একটি লিখিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে বইমেলা আয়োজক কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন ব্যক্তির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ‘প্রকাশক পরিষদ সিলেট’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই বইমেলার সভাপতি নাজমুল হক নাজুসহ কয়েকজন উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, নাজুর বিরুদ্ধে অতীতে বিরোধী মতের লেখকদের দমনে ভূমিকা রাখার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
সাংস্কৃতিক কর্মীদের পক্ষ থেকে তিনটি প্রকাশনী—‘ঘাস’, ‘চৈতন্য’ ও ‘অভ্র’—কে মেলা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, চৈতন্য প্রকাশনীর মালিক রাজিব চৌধুরী আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। একইভাবে অভ্র প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী অপূর্ব শর্মার বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “শহীদ মিনারের মতো একটি পবিত্র স্থানে বিতর্কিত ও স্বৈরাচার-সমর্থক ব্যক্তিদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।”
উল্লেখ্য, অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেন বিএনপি সিলেট বিভাগের সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির সাবেক সদস্য সাজন আহমদ সাজু এবং সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জুবায়ের আহমদ। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের একাধিক নেতা-কর্মী এতে সংহতি প্রকাশ করেন।
পুলিশ প্রশাসন অভিযোগ গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তারা আরও বলেন, “যে কোনো মূল্যে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ফ্যাসিবাদী প্রভাব প্রতিহত করা হবে।”






