ঢোল পিটিয়ে দখল হস্তান্তর:
চুনারুঘাটে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে জমি ফিরে পেলেন মালিক
দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। অবশেষে আদালতের নির্দেশে পৈতৃক ভিটায় ফিরলেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের মো. সফিক উদ্দিন আহম্মদ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ) দুপুরে উপজেলার চাটপাড়া মৌজায় এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে ০.০৩ একর জমি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
পুরানো রীতি মেনে এলাকায় ঢোল-ঢপকি বাজিয়ে এই দখল হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়, যা স্থানীয় জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, চুনারুঘাট সহকারী জজ আদালতে দায়ের করা হয়, মামলা অনুযায়ী বাদী মো. সফিক উদ্দিন আহম্মদ তার খরিদা সূত্রে প্রাপ্ত জমির দখল ফিরে পেতে আদালতের শরণাপন্ন হন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আদালত বাদীর পক্ষে রায় প্রদান করেন। রায়ের পর আজ প্রশাসনের উপস্থিতিতে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শায়েস্তাগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান শান্তকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ও আদালতের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সরেজমিনে গিয়ে জমিটি চিহ্নিত করা হয়। এরপর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে বাদীপক্ষকে ‘খাস দখল’ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে শায়েস্তাগঞ্জের সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান শান্ত, হবিগঞ্জ জজকোর্টের নাজির ফাহিমা খানম, চুনারুঘাট থানার এসআই মৃদুল তরফদার। দখল হস্তান্তরের সময় ঢোল বাজানোর বিষয়টি ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয়রা জানান, এটি মূলত একটি সামাজিক ঘোষণা- যাতে এলাকার মানুষ জানতে পারে যে জমিটি এখন থেকে তার প্রকৃত মালিকের। দীর্ঘ লড়াই শেষে নিজের জমির অধিকার ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সফিক উদ্দিন আহম্মদের পরিবার। তারা জানান, আমরা ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। আজ দখল ফিরে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞ।
হবিগঞ্জ ল কলেজের শিক্ষার্থী মোশাহিদুল ইসলাম বলেন- সঠিক কাগজপত্র ও বৈধ দলিল থাকলে যে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব, আজকের এই ঘটনা তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তএবং ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মাঝে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে যে, গায়ের জোর নয় বরং আইনের পথেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।







