হাওরে সেচ সংকটে ৬০০ একর জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা
আজমিরীগঞ্জের হাওরে পানির অভাবে প্রায় ৬০০ একর জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। এমতাবস্থায় চরম দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। শনিবার সেখানকার বোরোচাষিদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বরতদের কারণে এমনটা হচ্ছে।
আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বিরাট ভাটিপাড়া নোয়াবন সেচ প্রকল্পের আওতায় ভয়াবহ কৃষি সংকটে উদ্বিগ্ন কৃষকরা। তারা বলছেন, বোরো আবাদ শুরুর উপযুক্ত সময় পার হলেও সেচের পানি না থাকায় কৃষক জমিতে চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সময়মতো আবাদ করা না গেলে এই এলাকায় প্রায় ৪০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এতে শুধু কৃষকই নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
কৃষকরা জানান, বর্তমানে বোরো আবাদের উত্তম সময়। সেচের নিশ্চয়তা না থাকায় এখন পর্যন্ত সেচ পাম্প বসানোর স্থান নিয়ে জমির মালিকদের বিরোধ চলমান, যা নিষ্পত্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিরোধ নিষ্পত্তি শেষে পাম্প বসাতেই সময় পেরিয়ে যাবে। এরপর জমিতে পানি এলেও কৃষক বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিএডিসির আওতায় ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ওই ঠিকাদার পানির কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি। টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এলাকায় কোনো সেচ পাম্প বা মেশিন স্থাপন করা হয়নি। এদিকে সেচ পাম্প বসানোর নির্ধারিত স্থানটি এক পক্ষ তাদের মালিকানাধীন ভূমি দাবি করে সেখানে পাম্প বসাতে বাধা দিচ্ছে। ফলে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একাধিকবার প্রকল্পের ঠিকাদারের কাছে দ্রুত সেচ পাম্প স্থাপনের তাগিদ দেওয়া হলেও তিনি বিষয়টি মোটেই আমলে নিচ্ছেন না।
ওই হাওরের কৃষক হাবুল মিয়া জানান, তিনি ৮ কিয়ার বোরো জমি ৪০ মণ ধানের বিনিময়ে ইজারা নিয়েছেন। জমিতে আবাদ করার জন্য তিনি প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ করে বীজতলা তৈরি করেছেন। কিন্তু পানির অভাবে তিনি এখনও জমিতে চারা রোপণ করতে পারছেন না। বর্তমানে তাঁর বীজতলার বয়স দুই মাসেরও বেশি হয়ে গেছে। তাঁর আশঙ্কা, এই চারা এখন রোপণ করলেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে না।
আরেক কৃষক আলমগীর মিয়া জানান, বর্তমানে বোরো আবাদের সময় প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন পানি এলেও জমিতে যে পরিমাণ খরচ হবে, সে অনুপাতে ফসল পাওয়া যাবে না। সেচ প্রকল্পের চুক্তি, জমির ইজারা, ধান রোপণ, কীটনাশক- সারসহ সব ধরনের খরচ দিয়ে তাদের তহবিলে কিছুই থাকবে না।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, সম্প্রতি জেনেচঝে এক নম্বর সদর ইউনিয়নের বড় একটি অংশে সেচের পানি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে বিএডিসি সেচ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।







