হোমওয়ার্ক না করায় শিশুকে গাছে ঝুলিয়ে রাখল শিক্ষক!
ভারতের ছত্তীসগড়ের সুরজপুর জেলার নারায়ণপুর গ্রামের একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে চার বছর বয়সী এক ছাত্রকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। হোমওয়ার্ক সম্পূর্ণ না করায় তাকে কাপড় খুলে দড়ি দিয়ে বেঁধে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
হ্যান্স বাহিনি বিদ্যা মন্দির নামে ওই বিদ্যালয়ে সোমবার স্বাভাবিক দিনের মতোই ক্লাস শুরু হয়। নার্সারি শ্রেণির শিক্ষিকা কাজল সাহু হোমওয়ার্ক পরীক্ষা করতে গিয়ে এক শিশুর কাজ অসম্পূর্ণ দেখতে পান। অভিযোগ, এরপর তিনি রাগের মাথায় তাকে ক্লাস থেকে বের করে এনে গাছে ঝুলিয়ে দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরেক শিক্ষিকা অনুরাধা দেওয়াঙ্গনকেও দায়ী করা হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি গাছের ডালে ঝুলে অসহায়ভাবে কাঁদছে, বারবার নামিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে। অথচ শিক্ষকরা তার আর্তনাদ উপেক্ষা করছেন। পরিবারের সদস্য সন্তোষ কুমার সাহু বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে চরম অবহেলা ও নিষ্ঠুরতার অভিযোগ তুলে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তা ডি. এস. লাকরা বিদ্যালয়ে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অজয় মিশ্র নিশ্চিত করেন যে ঘটনাটির রিপোর্ট ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ক্লাস্টার ইনচার্জ মনোজ যাদবও বিদ্যালয় পরিদর্শন করে জানান, শিক্ষকদের আচরণ সম্পূর্ণভাবে ভুল ছিল।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে গুরুতর ভুল বলে স্বীকার করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকাদের একজন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, হ্যাঁ, ভুল হয়েছে… ইচ্ছাকৃত নয়।
শিশুটি এখন নিরাপদে থাকলেও ঘটনাটি রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। অভিভাবক ও অধিকারকর্মীরা শুধু শিক্ষিকাদের নয়, বিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।
সূত্র: এনডিটিভি







