ইফতারে ১০ আইটেম শরবত রেসিপি
সারাদিন রোজা থেকে ইফতারে ক্লান্তি দূর করতে স্বাস্থ্যকর ও রিফ্রেশিং শরবত পান করুন। এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ প্রয়োজন। আর সুস্থ থাকতে ইফতারে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় পরিহার করুন। এটি মোটেই ভালো নয়। প্রাকৃতিক ফলের রস কিংবা মধু ব্যবহার করুন, যা আপনার মনমেজাজ ফুরফুরে রাখতে সহায়তা করবে। এটি আপনার শরীরের সুস্থতা ধরে রাখবে।
ইফতারে সরাসরি খুব ঠান্ডা পানি না খেয়ে হালকা ঠান্ডা পানি পান করলে হজমে সুবিধা হয়। আর তাই ইফতারের সময় রোজা খুলতে লেবুর শরবত, বেল, বেদানার শরবত, দুধের শরবত, সাবুদানা কিংবা পুদিনাপাতার শরবত অন্যতম জনপ্রিয়। আপনি চাইলে ঘরে বসেই খুব সহজেই ২ মিনিটের মধ্যে তৈরি করে নিতে পারেন এই ঠান্ডা পানীয় শরবত।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, জনপ্রিয় ইফতারের কয়েকটি শরবতের রেসিপি—
১. লেবু-আদা শরবত
উপকরণ: ১ গ্লাস ঠান্ডা পানি, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ আদার রস, ২ টেবিল চামচ চিনি (বা স্বাদমতো), ১ চিমটি বিট লবণ ও পুদিনাপাতা। প্রণালি: সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে বা ব্লেন্ড করে বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।
২. বেলের শরবত
উপকরণ: পেট ঠান্ডা রাখতে পাকা বেল, চিনি কিংবা গুড়, লবণ ও পানি। প্রণালি: বেলের কাঁথ বের করে পানি ও চিনি মিশিয়ে ভালো করে ছেঁকে নিন। এরপর আইস কিউব দিয়ে পরিবেশন করুন।
৩. বেদানার শরবত
উপকরণ:বেদানা, লেবুর রস, বিট লবণ, চিনি ও পানি। প্রণালি: ভিটামিনসমৃদ্ধ বেদানার দানা থেকে রস বের করে (ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিতে পারেন) লেবুর রস, লবণ ও পানি মিশিয়ে পরিবেশন করুন।
৪. লাবান (দইয়ের শরবত)
উপকরণ: ঘন টকদই, পানি, চিনি ও সামান্য লবণ। প্রণালি: ব্লেন্ডারে সব উপকরণ একসঙ্গে ফেটিয়ে নিন।
৫. তিলের দুধের শরবত
উপকরণ: কাঠবাদাম (ভিজানো), দুধ, চিনি/মধু এবং জাফরান। প্রণালি: বাদাম পেস্ট করে দুধ ও চিনি বা মধু মিশিয়ে ঠান্ডা করে নিন। ইফতারে এটি অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক এবং ক্লান্তি দূর করতে।
৬. সাবুদানা-দুধের শরবত
উপকরণ: সেদ্ধ সাবুদানা, দুধ, চিনি, রুহ আফজা, ফল কুচি। প্রণালি: দুধ ও চিনি মিশিয়ে তাতে সেদ্ধ সাবুদানা ও ফল কুচি দিয়ে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।
৭. লেবু-পুদিনার রিফ্রেশিং শরবত
এটি ইফতারের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজ পানীয়, যা মুহূর্তেই ক্লান্তি দূর করে। উপকরণ: ১টি লেবুর রস, ১০-১২টি পুদিনাপাতা, ১ গ্লাস ঠান্ডা পানি, ২ টেবিল চামচ চিনি স্বাদমতো, এক চিমটি বিট লবণ ও বরফ কুচি। প্রণালি: ব্লেন্ডারে পানি, লেবুর রস, পুদিনাপাতা, চিনি ও বিট লবণ দিয়ে ভালোমতো ব্লেন্ড করে নিন। ছেঁকে গ্লাসে বরফ দিয়ে পরিবেশন করুন।
৮. খেজুর ও বাদামের শরবত
সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে খেজুর ও বাদামের শরবত অতুলনীয়।
উপকরণ: ৫-৬টি নরম খেজুর (বিচি ছাড়া), ১০-১২টি কাঠবাদাম বা কাজুবাদাম, ১ গ্লাস ঠান্ডা দুধ, ১ টেবিল চামচ মধু বা চিনি। প্রণালি: খেজুর ও বাদাম আধঘণ্টা দুধে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ব্লেন্ডারে সব উপকরণ দিয়ে মসৃণ করে ব্লেন্ড করে নিন। গ্লাসে ঢেলে উপরে বাদাম কুচি ছড়িয়ে দিন।
৯. তরমুজের শরবত
গ্রীষ্মকালীন ইফতারে এটি খুবই আরামদায়ক। উপকরণ: ২ কাপ তরমুজের টুকরো (বিচি ছাড়া), ১ কাপ ঠান্ডা দুধ কিংবা পানি, ২ টেবিল চামচ রুহ আফজা এবং বরফ কুচি। প্রণালি: তরমুজের টুকরো, দুধ ও রুহ আফজা একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। ছোট ছোট তরমুজ কুচি ও বরফ দিয়ে পরিবেশন করুন।
১০. ইসবগুল ও তোকমা দানার শরবত
এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। উপকরণ: ১ টেবিল চামচ ইসবগুলের ভুসি, ১ চা চামচ তোকমা দানা, ১ গ্লাস পানি, সামান্য লেবুর রস ও চিনি/মধু। প্রণালি: তোকমা দানা ১৫-২০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর পানিতে ইসবগুল, ভেজানো তোকমা, লেবুর রস ও চিনি মিশিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পান করুন।
উল্লেখ্য, শরবতে বিট লবণ ও পুদিনাপাতা ব্যবহার করলে স্বাদ ও গন্ধ দুটোই ভালো হয়। এবং চিনির পরিবর্তে মধু ব্যবহার করলে এটি আরও স্বাস্থ্যকর হবে। ইফতারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে শরবত তৈরি করে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন।






