জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ কার্যকর করার উপায় নিয়ে আলোচনা
“জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) অধ্যাদেশ ২০২৫ কার্যকরকরণ” বিষয়ক একটি আঞ্চলিক সংলাপ আজ সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজের সদস্য এবং বিভিন্ন অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।
সংলাপে বাংলাদেশে মানবাধিকার সুশাসনকে আরও শক্তিশালী করার পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের স্ট্রেংদেনিং ইনস্টিটিউশনস, পলিসিস অ্যান্ড সার্ভিসেস (সিপিএস) প্রকল্পের আওতায়, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতায় আয়োজিত এ সংলাপের উদ্দেশ্য ছিল নব গৃহীত এনএইচআরসি অধ্যাদেশ সম্পর্কে অংশীজনদের মধ্যে সমন্বিত ধারণা তৈরি করা এবং এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ চিহ্নিত করা।
সংলাপটি শুরু হয় মাহমুদুল হাসান, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, সিপিএস প্রকল্পের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে।
এরপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রোমানা শোয়াইগার, সিনিয়র রুল অব ল অ্যান্ড জাস্টিস অ্যাডভাইজার, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং সোহেল ইবনে আলী, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার, সুইজারল্যান্ড দূতাবাস।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, একটি শক্তিশালী, স্বাধীন এবং বিশ্বাসযোগ্য মানবাধিকার কমিশন অধিকারের সুরক্ষা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনমানুষের আস্থা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রোমানা শোয়াইগার বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন অধ্যাদেশের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে প্যারিস প্রিন্সিপলসের (স্ট্যাটাস ‘এ’) মানদণ্ড পূরণ সম্ভব হয়।
সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সোহেল ইবনে আলী বলেন, নতুন অধ্যাদেশটি পূর্বের মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯-এর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর, যা ব্যাপক পরামর্শ ও অংশীজন সম্পৃক্ততার ফল।
তিনি বলেন, প্রকৃত সফলতা নির্ভর করছে অধ্যাদেশটির সঠিক বাস্তবায়নের ওপর, যাতে দেশের সকল নাগরিক উন্নত অধিকার সুরক্ষার সুবিধা পেতে পারে।
“এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার যাত্রায় ইউএনডিপি ও সরকারের পাশাপাশি থাকতে পেরে সুইজারল্যান্ড গর্বিত, ”তিনি যোগ করেন।
অধ্যাদেশ বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন, বিশেষ পরামর্শক, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
তিনি অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি এবং বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, ছোটখাটো সংশোধনী সম্পন্ন করেই অধ্যাদেশটি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি স্বচ্ছ সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং একটি সমন্বিত জাতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পূর্বে প্রয়োজনীয় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে অঙ্গীকারবদ্ধ।
খোলা আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা অধ্যাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন এবং একটি ১২–১৮ মাসব্যাপী রোডম্যাপ প্রণয়নের প্রস্তাব দেন, যাতে আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে একটি সম্পূর্ণ কার্যকর ও দক্ষ এনএইচআরসি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।
আলোচনায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সমন্বয় জোরদার এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবার জন্য সহজসুলভ সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
সংলাপটি বক্তাদের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়, যেখানে তারা বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন, যাতে এনএইচআরসি আরও বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বাধীনতা এবং কার্যকারিতা নিয়ে পরিচালিত হতে পারে।








