জুড়ীতে নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগে সাংবাদিকের ওপর মামলা
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, অবৈধ অর্থ বিতরণ ও দেশীয় অস্ত্র মজুদের অভিযোগে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় স্থানীয় এক সাংবাদিককেও আসামি করা হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জুড়ী থানায় মামলাটি করেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জুড়ী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান ছুনু। এতে খোর্শেদ আলম নামে এক সাংবাদিককে আসামি করা হয়।
লিখিত অভিযোগে বাদী মোঃ মতিউর রহমান চুনু উল্লেখ করেন যে, মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনের নির্বাচনে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর অনুসারীরা নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও অবৈধভাবে অর্থ বিতরণের চেষ্টা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি টাকার বস্তা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় যান এবং দরিদ্র ভোটারদের নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। কোথাও কোথাও স্থানীয় জনতার বাধার মুখে তারা এলাকা ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ সংক্রান্ত কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
এছাড়া গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দেশীয় অস্ত্র (লাঠিসোঁটা) মজুদের অভিযোগও আনা হয়েছে। বিশেষ করে জুড়ী উপজেলার ফুলতলা এলাকায় দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকার নির্ধারিত সময় অতিক্রমের পরও রাতের বেলায় কিছু এলাকায় অর্থ বিতরণের চেষ্টা চালানো হয়।
এ মামলায় জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ডুমাবাড়ি গ্রামের সফিক মিয়ার ছেলে, সাংবাদিক খোর্শেদ আলমকে আসামি করা হয়েছে। তিনি দৈনিক সংবাদ সারাবেলা ও ‘ষাটমাকণ্ঠ’ পত্রিকার জুড়ী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, ঘটনার সময় খোর্শেদ আলম নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন এবং তিনি কোনো ধরনের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে গেয়ালবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি মন্তু মিয়া বলেন, খোর্শেদ আলম একজন সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তিনি কখনও কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত নন।
অপরদিকে একই ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, খোর্শেদ আলম কখনও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা।
এদিকে সাংবাদিক খোর্শেদ আলমের ওপর হয়রানিমূলক মামলার ঘটনায় ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে ষাটমাকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আবুল কাসেম এবং বার্তা সম্পাদক তাহমীদ ইশাদ রিপন বলেন, মামলা দিয়ে সাংবাদিককে হয়রানী খুবই দুঃখজনক। উক্ত মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।পাশাপাশি বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত মামলা থেকে নিঃশর্ত অব্যাহতির জন্য আহবান জানাচ্ছি।
এবিষয়ে জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিনহাজ উদ্দিন ষাটমাকন্ঠকে জানান, একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে।







