কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন, ১০ পর্যটকের মৃত্যু
কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্ট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭ জন মৃতের নাম ও পরিচয় জানা গেছে। এছাড়া আরও ৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে একে একে ৪টি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ সহকারি পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন।
হতাহত ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও সর্বশেষ ৪ জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডে মৃত ব্যক্তিরা হলেন, রাজধানী ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), ফায়িজান আহম্মেদ (৫) ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতির স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তা।
এ ঘটনায় আহত ছয়জনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে। তারা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুনে রিসোর্টটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে মোট রুম ছিল ৯টি। গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে তিন রুমের পর্যটক চেকআউট হয়ে চলে যান। বাকি ৬ রুমে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্য থেকে ৫ থেকে ৬ জনের মতো সকালে বেরিয়ে বিভিন্ন কাজে বাইরে ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, কী কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
এদিকে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার পর খবর পেয়ে সকাল ৮টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে এবং সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।
এ ঘটনার পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সবাই পালিয়েছেন।
এদিকে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তার লাইসেন্স ছিল না। গত জুন মাসে এ বিষয়ে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডিজি জানান, চলতি বছরের জনু মাসে এই রিসোর্টটিকে অগ্নিনিরাপত্তার সতর্ক করা হয়েছিল কারণ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স ছিল না। এই রিসোর্টের নিচে রান্নাঘর ছিল। এর ওপরে ছিল আবাসিক ব্যবস্থা। সেখান থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।







