কোটি বছর ধরে টিকে আছে ডাইনোসরের পায়ের ছাপ

ডাইনোসরের পায়ের ছাপ শুধু চিহ্নই নয়, এটি আমাদের এই প্রাচীন প্রাণীগুলোর আচরণ বোঝার এক অসাধারণ সূত্র। পায়ের ছাপের মাধ্যমে জানা যায় তারা কত দ্রুত দৌড়াত, কোথায় বাস করত, কখনও কখনও সাঁতার কাটত কি না। অন্য জীবাশ্মের সঙ্গে তুলনা করলে এগুলো একটু অদ্ভুত, কারণ এতে প্রাণীর কোনো অংশ থাকে না—শুধু ঘটে যাওয়া একটি মুহূর্তের প্রমাণ থাকে।
ডাইনোসরের পায়ের ছাপ জীবাশ্ম হয়ে কিভাবে লক্ষ লক্ষ বছর টিকে থাকে? এর উত্তর দেয় ইখনোলজি—বিজ্ঞানের একটি শাখা যা প্রাণীর জীবাশ্ম চিহ্ন, যেমন চলার পথের ছাপ, লেজের আঁচড় বা মাটিতে ধরা অন্য দাগ নিয়ে গবেষণা করে। এই চিহ্নগুলো বিশ্লেষণ করলে ডাইনোসরের আচরণ সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়।
বিজ্ঞান লেখক ও প্যালিওনটোলজিস্ট রাইলি ব্ল্যাক বলেন, আমরা সাধারণত পায়ের ছাপকে এমন কিছু ভাবি যা খুব অল্প সময়েই মুছে যায়। কিন্তু মরুভূমিতে হাঁটলে দেখা যায় যে কয়েক বছর আগে মানুষের হাঁটা ছাপও এখনও আছে। ঠিক পরিবেশে পলিমাটি ছাপকে ধরে রাখতে পারে। পরে সেই ছাপের ওপর নতুন মাটি বা পলি জমে এবং রোদে শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়। এতে প্রাকৃতিকভাবে এক ধরনের ছাঁচ তৈরি হয়। ধরুন আপনি নদীর তীর ধরে হাঁটছেন। আপনার পায়ের ছাপ কাদামাখা মাটিতে পড়ে।
প্রথমে মনে হয়, আগামীকালই নিশ্চয় তা মুছে যাবে। কিন্তু যদি মাটি শুকিয়ে শক্ত হয় এবং পরে বৃষ্টির পানি বা নদীর নতুন পলি ছাপের মধ্যে জমে যায়, সেটি রোদে শুকিয়ে পাথরের মতো শক্ত হয়ে যেতে পারে। বছরের পর বছর ধরে চাপ ও ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই ছাপ কয়েক মিলিয়ন বছর পরও টিকে থাকে। ব্ল্যাক আরো বলেন, এটা অনেকটা প্লাস্টার অব প্যারিস দিয়ে ছাঁচ বানানোর মতো। সত্যি বলতে, এতদিন টিকে থাকা বিস্ময়কর। কারণ সাধারণত এ ধরনের ছাপগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তবে বিরল কিছু মুহূর্তে ঠিক উল্টোটা ঘটে।
শত শত বছর ধরে অনুসন্ধান করে বিজ্ঞানীরা অসংখ্য ডাইনোসরের পায়ের ছাপ আবিষ্কার করেছেন। এর মধ্যে আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ট্র্যাকওয়ে। মজার বিষয় হলো, এই ছাপগুলো ভূতাত্ত্বিক সময়ে এক ক্ষুদ্র মুহূর্তের প্রতিফলন মাত্র। পৃথিবীতে যত প্রাণী ছিল, তাদের অধিকাংশের কোনো চিহ্নই আর পাওয়া যায়নি।
ব্ল্যাক বলেন, জীবাশ্ম হাড়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কাজ করে। আমরা হাড়কে শক্ত ভাবি, কিন্তু সেটাও টিকে থাকতে হলে দ্রুত চাপা পড়তে হয়। পলির ভেতর না থাকলে হাড়ও নষ্ট হয়ে যায়। পায়ের ছাপের ক্ষেত্রে ইখনোলজিতেও ঠিক একই নীতি প্রযোজ্য। সূত্র: আইএফএল সাইন্স





