মাধবপুরে রঘুনন্দন ছড়া থেকে বালু লুট: নেপথ্যে কারা?
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা এবং নোয়াপাড়া ইউনিয়নের শাহপুর এলাকায় রঘুনন্দন ছড়া থেকে দিন-রাত প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।”
সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রঘুনন্দন ছড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ উত্তোলন কেন্দ্র বসিয়ে ড্রেজার ও শ্রমিকের মাধ্যমে অবাধে বালু তোলা হচ্ছে। ছড়া থেকে বালু তুলে প্রথমে পাশের খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়, পরে ট্রাকযোগে তা বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই চক্রটি আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”
স্থানীয়দের দাবি, এই বালু লোপাট সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন হরিতলার হেলাল মিয়া, খলিল মিয়া এবং শামীম মিয়া। তাদের সঙ্গে আরও ২০-২৫ জনের একটি সক্রিয় দল রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এই চক্রের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রতিবাদ করলেই নানাভাবে হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রতিদিন এই ছড়া থেকে লাখ লাখ টাকার বালু লুটপাট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।”
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, এভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে। এতে করে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক নদী ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত এই উত্তোলন বন্ধ না হলে স্থানীয় কৃষি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়বে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুজিবুল ইসলাম বলেন, রঘুনন্দন ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।”







