মাউন্ট এডোরা হসপিটালে আধুনিক আইভিএফ সেন্টারের উদ্বোধন
সিলেটের স্বাস্থ্যসেবায় ইতোমধ্যে আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠা মাউন্ট এডোরা হসপিটাল এবার বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো। সন্তানহীন দম্পত্তিদের মুখে হাসি ফোটাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চালু করেছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন আইভিএফ (IVF) সেন্টার। সাশ্রয়ী ব্যয়ে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো এই সেবা কার্যক্রম।
মঙ্গলবার দুপুর ২টায় (২৭ জানুয়ারি) কেক কাটা ও ফিতা কাটার মাধ্যমে আইভিএফ সেন্টারের উদ্বোধন করেন হাসপাতালের সম্মানিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ মতিউর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আলমগীর সাফওয়াত, পরিচালক মেডিকেল সার্ভিসেস ডা. সৈয়দ মাহমুদ হাসান, হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কে এম আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. আলমগীর চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমদ, অধ্যাপক ডা. আখলাক আহমদসহ আরও অনেকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেটের নামকরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—অধ্যাপক ডা. শামসুন্নাহার বেগম হেনা, অধ্যাপক ডা. দীলিপ কুমার ভৌমিক, অধ্যাপক ডা. ইশরাত জাহান করিম, ডা. নিবাস চন্দ্র পাল, ডা. সুধাকর কৈরীসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
হসপিটালের সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয় অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ মতিউর রহমান বলেন—
“বর্তমানে বন্ধ্যাত্ব একটি বড় সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাউন্ট এডোরা হসপিটালের এই আইভিএফ সেন্টারের মাধ্যমে সিলেট তথা বাংলাদেশের মানুষ এখন হাতের নাগালেই বিশ্বমানের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা পাবেন। নিঃসন্তান দম্পত্তিদের জীবনে এটি নতুন আশা নিয়ে আসবে।”
আইভিএফ সেন্টারের পরিচালক ও কো-অর্ডিনেটর বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডা. কিশোয়ার পারভীন জানান—
“এই সেন্টারে শুধু IVF নয়, IUI, ICSI, ডিম্বাণু-শুক্রাণু হিমায়িতকরণ এবং ভ্রূণ পরীক্ষার মতো সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। উন্নত ল্যাবরেটরি, IVF ওটি এবং অভিজ্ঞ এমব্রায়োলজিস্টদের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাফল্যের হার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।”
আইভিএফ সেন্টারের উদ্বোধনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সিলেটের সাধারণ নাগরিকরাও। নগরীর বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন—
“আগে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার জন্য ঢাকায় কিংবা বিদেশে যেতে হতো। এখন সিলেটেই এই সেবা পাওয়া যাবে—এটি আমাদের জন্য অনেক বড় সুখবর।”
একজন নারী অভিভাবক জানান—“সন্তানহীন দম্পত্তিদের জন্য এটি শুধু চিকিৎসা নয়, এটি একটি নতুন জীবন ও নতুন স্বপ্নের সুযোগ।”
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ আইভিএফ সেন্টারের বিভিন্ন বিভাগ ও আধুনিক ল্যাবরেটরি ঘুরে দেখেন এবং বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় এমন উদ্যোগ গ্রহণ করায় মাউন্ট এডোরা হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সেন্টার সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন, যা নিঃসন্তান দম্পত্তিদের জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাবে। তারা বলেন,
মাউন্ট এডোরা হসপিটালের নতুন আইভিএফ সেন্টার শুধু একটি চিকিৎসা কেন্দ্র নয়—এটি সিলেটের স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন সম্ভাবনার নাম, যা অসংখ্য পরিবারে নতুন আলো ও আশার বার্তা পৌঁছে দেবে।





