মায়া ছড়িয়ে ফুটছে বুনোফুল ‘ভাট’, মুগ্ধ পথচারীরা
মৌলভীবাজারের প্রকৃতিতে এখন বসন্তের আবাহন। আর এই ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে মৌলভীবাজারের পথে-প্রান্তরে সাদা আর হালকা বেগুনি রঙের মায়া ছড়িয়ে ফুটেছে বুনো ফুল ‘ভাট’। কেউ একে বলেন বনজুঁই, কেউবা ঘেটু বা ঘণ্টাকর্ণ। অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে ওঠা এই ফুলটি এখন জেলার গ্রামীণ মেঠোপথ থেকে শুরু করে সড়কের ধার—সবখানেই তার রূপের পসরা সাজিয়ে বসেছে।
শুধু প্রকৃতিপ্রেমীদের নয়, এই বুনো ফুলের সৌন্দর্য কেড়ে নিচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণ-তরুণীদের মনও। ছোট ছোট শিশুদের হাতেও শোভা পাচ্ছে এই দৃষ্টিনন্দন ফুল। বিশেষ করে রাতের আঁধারে এই ফুলের মিষ্টি সুবাস চারপাশ মউ মউ করে তোলে। ভাটফুল শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, এর রয়েছে অসাধারণ ঔষধি গুণ।
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র ও চিকিৎসকদের মতে, ভাট গাছের পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর অ্যান্টি-ডায়াবেটিক উপাদান এবং ফাইবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকর। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা সমাধানেও এই পাতার রস বেশ উপকারী।
একসময় গ্রামবাংলার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এই ভাট গাছ। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কারণে এই ঔষধি উদ্ভিদটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। কমলগঞ্জ উপজেলার ইউনানি চিকিৎসক ডা. রহিমা আক্তার ডলি বলেন, ভাটফুল প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি ভেষজ ঔষধ হিসেবেও অনন্য। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই গাছগুলো টিকিয়ে রাখা জরুরি।
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী লতিফা আক্তার মিতুলের ভাষায়, ভাটফুল ফুটলেই বোঝা যায় প্রকৃতিতে বসন্ত এসেছে। কলেজে যাওয়া-আসার পথে এই ফুলের স্নিগ্ধতা মন ভালো করে দেয়।
কমলগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফারুক আহমদ বলেন, সব ফুলই সুন্দর, তবে বসন্তের শুরুতে ফোটা ভাটফুল গ্রামবাংলার প্রকৃতিতে এক আলাদা প্রাণ যোগ করে।







