মহাকাশে একা ভেসে বেড়াচ্ছে ‘ভবঘুরে’ গ্রহ,
মহাকাশে এমন কিছু গ্রহ রয়েছে, যেগুলো কোনো তারাকে কেন্দ্র করে ঘোরে না। নিজের কোনো সূর্য বা অভিভাবক তারা ছাড়াই এরা মহাশূন্যে একা ভেসে বেড়ায়। এসব গ্রহকে বলা হয় ‘ভবঘুরে গ্রহ’। সম্প্রতি এমনই এক নতুন ভবঘুরে গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
গ্রহগুলো সাধারণত কোনো না কোনো তারার চারদিকে আবর্তিত হয়। কিন্তু নতুন আবিষ্কৃত এই গ্রহটির কোনো নিজস্ব তারা নেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রহটি মহাকাশের অন্ধকারে সম্পূর্ণ একা অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ভবঘুরে গ্রহগুলো বিজ্ঞানীদের কাছে বিশেষভাবে রহস্যময়। কারণ এগুলো সাধারণ গ্রহের তুলনায় অনেক কম উজ্জ্বল। সাধারণত কোনো গ্রহকে শনাক্ত করা হয়, যখন সেটি নিজের তারার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে। কিন্তু ভবঘুরে গ্রহের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই, কারণ এদের কোনো তারা নেই।
নতুন এই গ্রহটির সন্ধান পাওয়া গেছে ‘মাইক্রো-লেন্সিং’ নামের একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার মাধ্যমে। কোনো বস্তুর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি যখন তার পেছনের কোনো দূরবর্তী তারার আলোকে বিকৃত বা বড় করে দেখায়, তখন এই প্রভাব তৈরি হয়।
এই ঘটনাটি একযোগে পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের মানমন্দির ও মহাকাশের টেলিস্কোপ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে পাওয়া তথ্য তুলনা করে বিজ্ঞানীরা গ্রহটির ভর নির্ণয় করতে সক্ষম হন।
গবেষকদের মতে, গ্রহটির ভর বৃহস্পতির ভরের প্রায় ২২ শতাংশ। এটি আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে আনুমানিক তিন হাজার পারসেক দূরে অবস্থিত।
২০০০ সালে প্রথম ভবঘুরে গ্রহের অস্তিত্বের ইঙ্গিত পান জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এরপর ২০২৪ সালে একটি দূরবর্তী তারার আলোতে অস্বাভাবিক বিকৃতি ধরা পড়ে। সেই পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয় পৃথিবীর একাধিক মানমন্দির এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত ‘গাইয়া’ স্পেস টেলিস্কোপ।
গবেষকদের ধারণা, এই গ্রহটি সম্ভবত কোনো এক গ্রহব্যবস্থার মধ্যেই জন্ম নিয়েছিল। পরে কোনো বড় মহাকর্ষীয় পরিবর্তনের ফলে সেটি নিজস্ব কক্ষপথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পাশের অন্য গ্রহের সঙ্গে সংঘর্ষ বা তারার অস্থিরতার কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
নতুন এই গ্রহটি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত অল্প কয়েকটি ভবঘুরে গ্রহের একটি। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের গ্রহের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে নাসার ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হলে ভবঘুরে গ্রহ শনাক্ত করা আরও সহজ হবে।
এই গবেষণাটি বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী ‘সায়েন্স’–এ প্রকাশিত হয়েছে।








