প্রাণ কোম্পানিতে শ্রমিক নির্যাতন: অফিস কক্ষে আটকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল!
হবিগঞ্জে প্রাণ কোম্পানির ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে কর্মরত শ্রমিকদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রাণ কোম্পানির হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে কর্মরত অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (এডমিন) জাহিদ তার অফিসে ডেকে নিয়ে দুই শ্রমিককে নির্মমভাবে মারধর করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি অফিস কক্ষে দাঁড় করিয়ে শ্রমিকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছেন। এ সময় শ্রমিকরা পায়ে ধরে কাকুতি-মিনতি করলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্যাতনের ধরন ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অপমানজনক। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভিডিওতে শ্রমিকদের আর্তনাদ স্পষ্ট শোনা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় শ্রমিকদের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা এর আগেও একাধিক শ্রমিককে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন। তবে চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি সামনে এসেছে। সচেতন মহল বলছে, কোনো শ্রমিক যদি অপরাধ করে থাকেন, তবে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়ে এভাবে শ্রমিককে শারীরিক নির্যাতন করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তার দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিষয়ে জানতে প্রাণ কোম্পানির এজিএম (এডমিন) এহসানুল হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে নিজে ফোন করে দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি আসলে সিকিউরিটি ট্রেনিংয়ের অংশ। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সময় চোর-ডাকাত বা বান্দরের উপদ্রব দেখা দেয়। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিকিউরিটি সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতে হয়। ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি (জাহিদ) আমাদের ট্রেইনার।
লাঠি দিয়ে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রেনিংয়ের অংশ হিসেবেই নিরাপত্তাকর্মীদের প্রস্তুত করা হয়। এ বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন বলেন, এ ধরনের কোনো নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







