পুলিশের গাড়িতে লিফট নিয়ে মামলার আসামী লিটন-জুনায়েদ
পুলিশের এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত গাড়িতে লিফট নেওয়ার পর স্পর্শকাতর একটি মামলার আসামী হতে হয়েছে সংবাদকর্মী লিটন মিয়া ও চালক জুনায়েদ আহমদকে। এমন অভিযোগ তুলেছে তাদের পরিবার। প্রকৃত ঘটনার ভিন্ন চিত্র থাকলেও পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মে) দুপুর ২টায় সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আটক লিটন মিয়ার বড় ভাই মরম আলী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার পর সিলেট নগরের এয়ারপোর্ট রোডস্থ এডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড এলাকার চেকপোস্টে একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে গাড়ির পেছনের সিটে একটি ওয়াকিটকি এবং পেছনের ঢালায় একটি চাকু পাওয়া যায়। এসময় গাড়ি থেকে লিটন মিয়া ও চালক জুনায়েদকে আটক করা হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে। কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই কামরুল ভোলাগঞ্জ বাজার থেকে নিজস্ব গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার উদ্দেশ্যে চালক জুনায়েদকে নিয়ে সিলেট নগরের দিকে রওনা হন। পথে ভোলাগঞ্জ থেকে বের হওয়ার সময় তার সঙ্গে লিটনের দেখা হয়। পরিচিত হওয়ায় এবং লিটনের সিলেটে জরুরি কাজ থাকায় তাকে গাড়িতে তুলে নেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে পাড়ুয়া এলাকায় পাথর উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষের খবর পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা হওয়ায় এসআই কামরুল মাঝপথে নেমে যান। এরপর চালক জুনায়েদ গাড়ি নিয়ে সিলেটের দিকে রওনা দেন। এসময় গাড়ির সামনের সিটে ছিলেন লিটন ও চালক জুনায়েদ।
চেকপোস্টে আটকের পর লিটন ও জুনায়েদ জানান, ওয়াকিটকি ও গাড়ির মালিক এসআই কামরুল। আটকের বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাড়ি ও ওয়াকিটকির মালিকানা স্বীকার করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। কামরুলের স্বীকারোক্তির অডিও এবং ভিডিও পরিবারের কাছে সংরক্ষিত আছে বলে ও জানান তারা। পরে তিনজনকেই থানায় নেওয়া হয় এবং সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদেও মালামালের মালিকানা তার বলে নিশ্চিত হওয়া যায় বলে পরিবারের বক্তব্য।
কিন্তু এরপরও লিটন মিয়া ও চালক জুনায়েদকে ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক’ দেখিয়ে একটি মামলা দায়ের করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মরম আলী। তার দাবি, একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে এই স্পর্শকাতর মামলায় তাদের আসামী করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, লিটন মিয়া পেশায় একজন সংবাদকর্মী এবং গণঅধিকার পরিষদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক। তিনি তিন সন্তানের জনক এবং পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করতেই এই মামলা দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। বর্তমানে লিটন ও জুনায়েদ কারাগারে রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে তাদের মুক্তি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।








